নিজস্ব প্রতিবেদন, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলের মাটি থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, “টিএমসি জমানার শেষ ঘণ্টা বেজে গিয়েছে” এবং ৪ মে-র পর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কেউ রক্ষা পাবে না।
এদিন তাঁর বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুর্নীতি ও নারীশক্তি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র সরকারকে নিশানা করে মোদী অভিযোগ করেন, বাংলায় মহিলাদের ক্ষমতায়ন রুখতে তৃণমূল ও কংগ্রেস একযোগে কাজ করছে। তাঁর দাবি, নারী সংরক্ষণ বিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে।
প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সভায় উপস্থিত বিপুল জনতার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জনরোষই প্রমাণ করছে, তৃণমূলের দিন ফুরোতে চলেছে।” একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
মহিলাদের মন জয় করতে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে বছরে ৩৬ হাজার টাকা ভাতা, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১ হাজার টাকা এবং সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অন্তত ৭৫ হাজার নারীকে ‘লাখপতি দিদি’ করার লক্ষ্য, ‘জিরো বিদ্যুৎ বিল’ এবং বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদী বলেন, “যারা বাংলার মানুষের অধিকার লুট করেছে, তাদের সাজা হবেই। ৪ মে’র পর কাউকে বাঁচানো যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলের এই জনসভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী— আসন্ন নির্বাচনে ‘নারীশক্তি’ ও ‘দুর্নীতি’ ইস্যুকেই হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে চলেছে বিজেপি।




