বাইজিদ মণ্ডল | দক্ষিণ ২৪ পরগনা
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৮ ফেব্রুয়ারি:
মাদ্রাসা শিক্ষাকে ঘিরে “জঙ্গি তৈরি হচ্ছে” ধরনের মন্তব্য করে ধর্মীয় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি নেত্রী ও বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের তীব্র বিরোধিতা করলেন ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পারভিন নেসা খাতুন।
এক বিবৃতিতে পারভিন নেসা খাতুন বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অপমান করে না, বরং উপমহাদেশের বহুমাত্রিক ও সমন্বিত শিক্ষার ঐতিহ্যকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।” তাঁর দাবি, মাদ্রাসা কোনওদিনই একক কোনও সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভাষা, দর্শন ও মানবিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ঐতিহাসিকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় নেতা শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে তিনি এক মুসলিম শিক্ষকের কাছ থেকে ফার্সি ভাষা শিখেছিলেন, যা সেই সময়ে প্রশাসনিক ও বিদ্যাচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ছিল। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে শিক্ষা কখনও বিভেদের দেয়াল মানেনি।
পারভিন নেসা খাতুন আরও বলেন, আধুনিক ভারতের পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ও আরবি ও ফার্সি শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর চিন্তাজগৎ প্রসারিত করেছিলেন। সেই শিক্ষাই তাঁকে সমাজসংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ইতিহাস স্পষ্ট করে বলে—মাদ্রাসা মানেই সংকীর্ণতা নয়; বহু ক্ষেত্রেই এটি ছিল প্রগতিশীল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র।”
এই প্রেক্ষিতে মাদ্রাসাকে “জঙ্গি তৈরির আঁতুড়ঘর” হিসেবে চিহ্নিত করাকে তিনি অজ্ঞতা ও বিদ্বেষের বিপজ্জনক বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে অবিশ্বাস বাড়ায়, সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে আঘাত করে।
ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনওই ঘৃণা ছড়ানোর অধিকার হতে পারে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপমানজনক ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সংগঠনের তরফে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষায় আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতির শেষে পারভিন নেসা খাতুন বলেন, “বিদ্বেষ নয়, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানই সমাজকে শক্তিশালী করে। ইতিহাস বিকৃত করে নয়, সত্যকে সামনে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”








