ভিডিও

উষাগ্রামে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, বচসা গড়াল মারপিটে

আসানসোল : শহরের রাজনৈতিক মহলে ফের বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার উষাগ্রাম এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ এতটাই তীব্র আকার নেয় যে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত মারপিটে গড়ায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় কালীপাহাড়ি এলাকার বিজেপি নেতা রাহুল সিং গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি নেতা বন্টি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণ থানায় পৌঁছান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উষাগ্রাম এলাকায় কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা বন্টি এবং বিজেপির পুরুলিয়া সংযোজক রাহুল সিংয়ের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা চলার পর হঠাৎই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রাহুল সিং আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

তবে ঠিক কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষের তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবারের ঘটনা সেই দ্বন্দ্বকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। সংগঠনের ভিতরে এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, নেতৃত্বের দখল এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ উঠছে।

ঘটনার পর এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষের কাছ থেকেই ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। অন্যদিকে বন্টি দক্ষিণ থানায় গিয়ে নিজের বক্তব্য পুলিশের সামনে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন পুরনিগম নির্বাচন এবং বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপির অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে অসন্তোষও সামনে আসছে। উষাগ্রামের ঘটনাকে সেই বৃহত্তর অন্তর্দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বন্টির ভাই গুড্ডু গত পুরনিগম নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তারপর থেকেই এলাকায় মহতো পরিবারের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে রাহুল সিংও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। ফলে দুই পক্ষের এই সংঘর্ষ বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন নিজেদের শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে দ্রুত সংগঠন বিস্তারে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি আগামী পুরনিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে দল প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের অন্দরমহলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বিরোধীদের হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দুই পক্ষের তরফে কী অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং দলীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

TAGS

সম্পর্কিত খবর