ভিডিও

কলকাতা সহ রাজ্যের সেরা বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের (চেস্ট ফিজিশিয়ান) ২৯তম বার্ষিক সম্মেলন ACPCON 2026

নির্ভীক বাংলা,কলকাতা, ৭ ফেব্রুয়ারি:
কলকাতা সহ রাজ্যের সেরা বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞদের (চেস্ট ফিজিশিয়ান) ২৯তম বার্ষিক সম্মেলন ACPCON 2026 শুরু হল কলকাতার স্বভূমির রঙ দরবারে। অ্যাসোসিয়েশন অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানস (ACP), পশ্চিমবঙ্গ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই দু’দিনব্যাপী সম্মেলন চলবে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি।
এই সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকে আগত প্রায় ৩৫০ জন চেস্ট ফিজিশিয়ান, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের নানান ধরনের অসুখ ক্রমশ বাড়ছে। সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ)-এর অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে ৪০ ঊর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ প্রায় ৮.৩৬ শতাংশ। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হল, শহরাঞ্চলে অধূমপায়ী রোগীদের মধ্যেও সিওপিডির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যার মূল কারণ বায়ুদূষণ—জানান ACPCON 2026-এর অরগানাইজিং সেক্রেটারি ডা. ইন্দ্রনীল হালদার।
এছাড়াও আমাদের দেশে ফুসফুসের যক্ষ্মা (টিবি) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। এই রোগীদের ক্ষেত্রে টিউবারকিউলোসিস অ্যাসোসিয়েটেড অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (TOPD) এবং তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়েও এই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
ACPCON 2026-এর মূল উদ্দেশ্য হল ফুসফুসের সমস্ত ধরনের রোগ প্রাথমিক স্তরে নির্ণয় করা এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি রোধ করা, জানান অরগানাইজিং সায়েন্টিফিক চেয়ারম্যান ডা. অংশুমান মুখোপাধ্যায়।
ফুসফুসের রোগে সবচেয়ে কষ্টকর উপসর্গ হল শ্বাসকষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেন যথেষ্ট না হওয়ায় ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রসঙ্গে ফুসফুসের রোগের চিকিৎসায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ব্যবহার নিয়ে AIIMS কল্যাণীতে একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। কাটিং এজ টেকনোলজির সাহায্যে কীভাবে রোগীদের আরও ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়—জানান ACP পশ্চিমবঙ্গ শাখার জেনারেল সেক্রেটারি ডা. জয়দীপ দেব।
ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে সংকটজনক রোগীদের কীভাবে জীবন রক্ষা করা যায়, সেই বিষয়ে চিকিৎসকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি প্রিভেন্টিভ রেসপিরেটরি মেডিসিন, সংকটজনক রোগীদের জন্য আধুনিক জীবনদায়ী ব্যবস্থা এবং ফুসফুসের টিবির আধুনিক চিকিৎসা নিয়েও আলোচনা হয়।
মূল সম্মেলনে ‘পালমো-টক’ শীর্ষক একটি পুস্তক প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বক্তব্য নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ফুসফুসের ক্রনিক অসুখে নতুন নিউমোনিয়ার টিকার গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় করেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. পার্থসারথী ভট্টাচার্য, ডা. সুস্মিতা রায়চৌধুরী, ডা. এ. জি. ঘোষাল, ডা. খুশবু পিলানিয়া, ডা. নিশান্ত চৌহান, ডা. ভি. বালাসুব্রহ্মনিয়াম প্রমুখ।
আশা করা যায়, ACPCON 2026 আগামী দিনে ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে

TAGS

সম্পর্কিত খবর