নির্ভীক বাংলা,আসানসোল:
বিগত আটদিন ধরে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে কার্যত জঞ্জালের শহরে পরিণত হয়েছে আসানসোল। শহরের মূল রাস্তা থেকে অলিগলি—সর্বত্র আবর্জনার স্তূপ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার একদিকে বামফ্রন্ট, অন্যদিকে জেলা যুব কংগ্রেস আলাদা আলাদা কর্মসূচিতে আসানসোল পৌরনিগমে বিক্ষোভ দেখায়।
শুক্রবার সকালে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে জঞ্জাল পরিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ পদযাত্রা করে আসানসোল পৌরনিগমে এসে মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে যান নেতৃত্ব। বামফ্রন্ট নেতা লোকনাথ চ্যাটার্জি জানান,
“আটদিন ধরে সাফাই কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তার ফলে গোটা শহর জঞ্জালে ঢেকে গিয়েছে। অথচ পৌরনিগমের পক্ষ থেকে জঞ্জাল পরিষ্কারের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পৌরনিগম ন্যূনতম পরিষেবা দিতেও ব্যর্থ।”
তিনি আরও জানান, সাফাই কর্মীরা পিএফ ও ইএসআই-সহ ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এবং বামফ্রন্ট এই আন্দোলনের পূর্ণ সমর্থন করছে। আগামী দিনেও শ্রমিকদের অধিকারের লড়াইয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেয় বামফ্রন্ট।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে জেলা যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জঞ্জাল পরিষ্কারের দাবিতে আসানসোল পৌরনিগম দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি সৌভিক মুখার্জি বলেন,
“মাইনে, পিএফ ও ইএসআই সংক্রান্ত দাবিতে সাফাই কর্মীরা আন্দোলনে নামায় গোটা শহর জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। পৌরনিগমের উচিত অবিলম্বে সাফাই কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা।”
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন,
“পৌরনিগম ‘ক্লিন আসানসোল, গ্রিন আসানসোল’-এর প্রচার করেছিল। কিন্তু আজ আসানসোল ‘ডাস্টবিন আসানসোল’-এ পরিণত হয়েছে। ডাস্টবিন থেকে জঞ্জাল রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে, পথচারীরা হাঁটতে পারছেন না। পৌরনিগমের উচিত আসানসোলবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাফাই কর্মীদের দাবি প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিলেন আসানসোল পৌরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন,
“গত বছরই সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও পৌরনিগমের তুলনায় ৩৫৮ টাকা বেশি বেতন এবং পিএফ বাবদ ৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। পৌরনিগমের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়া পর্যন্ত আগামী দু’বছর বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।”
সাফাই কর্মী নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডির হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,
“ভালো কথা, জঞ্জাল ফেলুক পৌরনিগমের গেটে।”
পাশাপাশি তিনি জানান, রাস্তা পরিষ্কারের বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
এদিকে শহরের জঞ্জাল পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আসানসোল দক্ষিণ থানার সামনে সহ একাধিক এলাকায় রাস্তায় জঞ্জাল জমে যাওয়ায় চলাচল কার্যত অচল। তার ওপর গরুর উৎপাত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ,
“আমরা নিয়মিত কর দিই। অথচ শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরনিগম পালন করতে পারছে না। এইভাবে চলতে থাকলে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট-সহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়বে।”
জঞ্জাল, আন্দোলন ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে আপাতত চরম দুর্ভোগে আসানসোলবাসী—এটাই এখন শহরের বাস্তব চিত্র।





