।।
নির্ভীক বাংলা,বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভার চৈতা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালতিপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন মাঠে মঙ্গলবার কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশ্য জনসভা। কেন্দ্রের স্বৈরাচারী শাসন, অপরিকল্পিত ও জনবিরোধী এসআইআর এবং বাংলার প্রতি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে এই সভা ঘিরে ছিল তুমুল উৎসাহ ও রাজনৈতিক উত্তাপ। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত বক্সী ও সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। শুরু থেকেই মানুষের ঢল, স্লোগান ও পতাকায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই জনসভা শুধু কর্মসূচি নয়, ছিল প্রতিবাদের এক শক্তিশালী বার্তা।
রাজ্য সভাপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বসিরহাট উত্তর বিধানসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসির সভাপতি এটিএম আব্দুল্লাহ্ রনি এবং বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন, যুব সভাপতি সমিক রায় অধিকারী, বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক, বসিরহাট উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত বসিরহাট ২ ও হাসনাবাদ ২ ব্লকের সভাপতি সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব। নেতৃত্বের এই উপস্থিতি ও সংগঠনের শক্তি জনসভাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এটিএম আব্দুল্লাহ্ রনি সরাসরি আক্রমণ শানান কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আজকের ভারতবর্ষে গণতন্ত্র ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। মানুষের কথা শোনার বদলে ভয় দেখিয়ে শাসন কায়েম করার চেষ্টা চলছে। এসআইআরের মতো অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক তৈরি করেছে। বাংলাকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। কখনও প্রকল্পের টাকা আটকে, কখনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে।” তার বক্তব্যে উঠে আসে শ্রমজীবী মানুষের কথা, সীমান্ত এলাকার বাস্তব সমস্যা এবং বসিরহাট-হাসনাবাদের মতো অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রভাব। রনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় যেভাবে লড়াই করছেন, সেই লড়াইয়ে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নেবে। যত বাধাই আসুক, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বলেন, “বাংলা মাথা নত করে চলতে জানে না।” তিনি কেন্দ্রের একের পর এক সিদ্ধান্তকে আক্রমণ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে রাজ্যগুলির অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।” সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারও সংগঠনের শক্তি ও ঐক্যের উপর জোর দেন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে কর্মীদের প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।
সভা জুড়ে বারবার উঠে আসে বঞ্চনা, অধিকার ও প্রতিরোধের কথা। বসিরহাট উত্তর বিধানসভার এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি—এটি হয়ে ওঠে কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শনী। মানুষের উপস্থিতি ও নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তায় পরিষ্কার, এই অঞ্চল থেকে আগামী দিনে আরও জোরালো রাজনৈতিক আন্দোলনের ইঙ্গিত মিলল।





