ভিডিও

গাড়িতে নীল বাতি নিয়ে বিতর্ক, জামুরিয়ায় প্রচারে সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ

নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস, আসানসোল | ২২ মার্চ
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় জামুরিয়ায় প্রথমবারের মতো ভোট প্রচারে নামলেন আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। এদিন তিনি দলের প্রার্থী হরেরাম সিং ও তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক জনসভায় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
সভায় শত্রুঘ্ন সিনহা দাবি করেন, হরেরাম সিংয়ের জয় নিশ্চিত এবং সেই জয় নিশ্চিত করতে দলীয় কর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি সংবাদমাধ্যমের একাংশকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলায় দাঙ্গা ও অশান্তির যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কথায়, রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে।
এদিন তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, এই কারণেই এবারের নির্বাচন গত ১৫-২০ বছরের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি একযোগে কাজ করছে।
শত্রুঘ্ন সিনহা আরও দাবি করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প—স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী—উল্লেখ করে বলেন, এই প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের উপকারে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছিল, যা রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করেছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ উঠেছে, তবে বাংলায় তা হতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিন বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও তাঁর গাড়িতে নীল বাতি থাকার বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহা জানান, তিনি সদ্য বাংলায় এসেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। বিতর্কের জেরে পরবর্তীতে তাঁর গাড়ি থেকে নীল বাতি সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জামুরিয়ায় বিজেপি প্রার্থী ডঃ বিজন মুখোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি কার্যকর থাকাকালীন কোনো নেতারই নীল বাতি ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতারা নিয়ম লঙ্ঘন করছেন এবং এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর