নির্ভীক বাংলা, জামুড়িয়া: বিধায়ক কার্যালয়ের সামনেই জমি মাফিয়ার দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত আখলপুর এলাকায়। অভিযোগ, জমির বন্টননামা সম্পূর্ণ না করেই চার জমির মালিকের নামে খরিদ করা জমি অন্যায়ভাবে তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যথাযথ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ছাড়াই একাধিক জমিতে নির্মাণকাজ চলছে বলেও দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারী বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত খনি কর্মী। তাঁর দাবি, ২০০৯-২০১০ সালে অবসরকালীন সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক দাগ নম্বরের জমি ক্রয় করেন তিনি। বর্তমানে সেই অংশীদাররাই তাঁকে না জানিয়ে জমি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেলে তিনি স্থগিতাদেশ (ইনজাঙ্কশন) পান।
তবুও আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও জমি বিক্রি ও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই জমিতে নির্মাণকাজ চলছিল। খবর পেয়ে বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার পুলিশে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় জমি জালিয়াতি ও তথাকথিত জমি মাফিয়াদের সক্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যদি এভাবে জমি বিক্রি ও নির্মাণ চলতে পারে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়?
এ বিষয়ে হরেরাম সিং জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে উপযুক্ত দপ্তরের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, এক নম্বর বরো দপ্তরের চেয়ারম্যান শেখ সান্দার বলেন, অভিযোগ ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে পৌঁছেছে। কোনওরূপ অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।





