নির্ভীক বাংলা আসানসোল 
সানসোল:
ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলায় বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ১ মার্চ ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে Mojtaba Khamenei-র নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ইরানে এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের ওপর হওয়া হামলার জবাব দিচ্ছে। ফলে এই সংঘাত ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে।
এদিকে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বহু বছর ধরে বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চলতি রমজান মাস ও ঈদের সময় তারা কোনও উৎসব বা আনন্দ অনুষ্ঠান করবেন না। পাশাপাশি নিজেদের বাড়ির সামনে কালো পতাকা টাঙিয়ে ৪০ দিন শোক পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আসানসোলের পাণ্ডবেশ্বর, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া জেলার আদ্রা এবং হুগলি সহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের বাড়ির সামনে কালো পতাকা টাঙিয়ে শোক প্রকাশ করছেন।
পাণ্ডবেশ্বরের ইরানি বস্তির বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী রুস্তম আলি খান জানান, তাঁর জন্ম বাংলাতেই। তাঁর কথায়, মুঘল আমলে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ইরান থেকে ভারতে এসেছিলেন। বর্তমানে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করছেন।
তিনি আরও জানান, তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পেশা ছিল পাথরের আংটি, চশমা, মশলা, চুড়ি ও প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসা, যা এখনও অনেকেই করে থাকেন। রুস্তম আলি খানের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষদের থাকার জন্য ইরান সরকারের তরফে এই জমি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশাপাশি বসবাসের জন্য বাড়িও তৈরি করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁদের কাছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি, প্যান কার্ডসহ সব ধরনের ভারতীয় নথি রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাও তারা পাচ্ছেন। রুস্তম আলি খান বলেন, তারা নিজেদের “ভারতীয় ইরানি” হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন।





