ভিডিও

ডিএসপি এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভে ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন দুর্নীতির অভিযোগ, তুমুল চাঞ্চল্য

নির্ভীক বাংলা শ্যাম দাস দূর্গাপুর:
বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিল্পাঞ্চলে নতুন বিতর্ক। ডিএসপি এমপ্লয়িজ কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি-কে ঘিরে উঠেছে ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন তেল তোলার পর তার হদিশ না মেলার অভিযোগ।
অভিযোগ, কেরোসিন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শংকর সরকার প্রথমে সদস্য সুশীল দাসের মাধ্যমে ৪০০০ লিটার এবং পরে নিজে স্বাক্ষর করে আরও ১২ হাজার লিটার—মোট প্রায় ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন তেল খনি অঞ্চল উখরার নির্দিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে তোলেন। কাজোড়া এলাকার ‘গুপ্তা অটোমোবাইল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’ থেকেও ৪০৬২ লিটার তেল তোলার কথা জানা গেছে।
এই তেল দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের ১০টি ডিপোতে পৌঁছায়নি বলেই অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে সেই বিপুল পরিমাণ তেল গেল কোথায়? শোনা যাচ্ছে, খোলা বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লোটার অভিযোগও উঠেছে, যদিও তা এখনও প্রমাণিত নয়।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট এলাকার গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ কেরোসিন এই কো-অপারেটিভের মাধ্যমেই সরবরাহ করা হয়। জানুয়ারি মাসে দাম বেশি থাকায় তেল তোলা হয়নি বলে দাবি নতুন বোর্ডের। তবে ফেব্রুয়ারিতে দাম কমার পর দু’দফায় তেল তোলা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ।
কো-অপারেটিভের সাধারণ সম্পাদক জানান, “তেল তোলা হয়েছে কিন্তু গুদামে যায়নি। বিষয়টি জানার পর ডিরেক্টর শংকর সরকারকে নোটিশ করা হয়েছে। কেন অন্যত্র রাখা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে শংকর সরকারের দাবি, “জানুয়ারিতে তেল তোলা হয়নি, তাই ফেব্রুয়ারিতে তোলা হয়েছে। ধাপে ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে।”
ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। লক্ষণ ঘরুই কটাক্ষ করে বলেন, “কেরোসিনেও দুর্নীতি। কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে আর লুটে নিচ্ছে শাসকদলের নেতারা। মানুষ জবাব দেবে।”
ঘটনাকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল জুড়ে সমালোচনা তুঙ্গে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে। নির্বাচনের মুখে এই অভিযোগ শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

TAGS

সম্পর্কিত খবর