ভিডিও

আদিবাসী সমাজের ক্ষোভ: সরকারি বঞ্চনার অভিযোগে উত্তপ্ত জঙ্গলমহল

নির্ভীক বাংলা,
সুমন পাত্র, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজ্যে আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে সরকারের একাধিক দাবি থাকলেও, বাস্তব চিত্র নিয়ে এবার সরব হলেন আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের অভিযোগ, নানা ক্ষেত্রে অব্যবস্থা ও বঞ্চনার জেরে ক্ষোভ জমে উঠছে জঙ্গলমহল জুড়ে।
সম্প্রতি তপশিলি উপজাতিভুক্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ বৃত্তিমূলক ও প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ সামনে আসে। অভিযোগ, দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের জন্য ন্যূনতম যাতায়াত বা থাকার ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন। এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্রে শৌচাগার ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবারও অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদিবাসী সমাজের এক প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উৎসবের সময় আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হলেও, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমরা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছি।”
প্রতিনিধিদের মতে, সমস্যা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়। জাতিগত শংসাপত্র পেতে হয়রানি, ভুয়া শংসাপত্রের অপব্যবহার, সাঁওতালি মাধ্যম ও অলচিকি লিপিতে পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাব এবং শিক্ষক সংকট—এই সবই দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তৃণমূল স্তরে পৌঁছাতেও বাধার অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালালেও, এই ক্ষোভ শাসক শিবিরের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। বিরোধীরাও ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সরব হয়ে সরকারকে আক্রমণ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই আশ্বাসে এখনই সন্তুষ্ট নয় আদিবাসী সমাজ। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা— ন্যায্য অধিকার ও সম্মান না পেলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন

TAGS

সম্পর্কিত খবর