ভিডিও

১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ধর্মঘটের সমর্থনে ইসিএল-এর সাতগ্রাম ইনক্লাইনে জ্যাক-এর পথসভা

নির্ভীক বাংলা:
কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠনের ডাকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত দেশব্যাপী ধর্মঘটকে সফল করার লক্ষ্যে শুক্রবার ইসিএল-এর সাতগ্রাম–শ্রীপুর এরিয়ার অন্তর্গত সাতগ্রাম ইনক্লাইনে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির উদ্যোগে ধর্মঘটের সমর্থনে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই পথসভায় কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রবীণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে শ্রমিক নেতারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটে শ্রমিকদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।
এইচএমএস নেতা সিন্টু ভূঁইয়া বলেন,
“এই আন্দোলন আর শুধুমাত্র দাবিদাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন শ্রমিকদের অস্তিত্ব রক্ষার এক নির্ণায়ক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই লড়াইয়ে সামিল হতে হবে।”
পথসভায় শ্রম সংগঠনের নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, নতুন শ্রম কোড চালু করে শ্রমিকদের আন্দোলন ও ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান, চারটি নতুন শ্রম আইন অবিলম্বে বাতিল করাই এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বে চালু থাকা ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে সেগুলিকে মাত্র চারটি আইনে একীভূত করা শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী।
এছাড়াও বক্তারা কয়লা শিল্পে ক্রমবর্ধমান বেসরকারিকরণ ও ঠিকাদারি প্রথা বন্ধের দাবি জানান। খনিতে উৎপাদন-সহ সমস্ত কাজ স্থায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমে করানো এবং কমার্শিয়াল মাইনিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়।
শ্রমিক নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় কয়লা শিল্পের জাতীয়করণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে যেভাবে দ্রুত বেসরকারিকরণ চলছে, তাতে আগামী দিনে সরকারি কয়লা খনিগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এই পথসভায় উপস্থিত ছিলেন— INTUC-এর সোরেন চৌধুরী, সিরাজ হুসেন;
CITU-এর দেবীদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, হিমাদ্রি চক্রবর্তী, সৈয়দ ইলিয়াস;
AITUC-এর জে কে মিশ্র, মনোজ প্রসাদ, সুশীল কুমার দে;
HMS-এর সিন্টু ভূঁইয়া, এস মহেশ শেখর;
KMC-এর রাকেশ কুমার, এইচ এল সোনি;
মুকেশ কুমার সিনহা, জয়প্রকাশ বোউরি, জগদীশ সিং সহ আরও বহু শ্রমিক নেতা।

TAGS

সম্পর্কিত খবর