আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের রাহা লেনে রাস্তার ধারে সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা কথিত অবৈধ দখল উচ্ছেদে শুক্রবার সকালে আসানসোল পুরনিগম বুলডোজার অভিযান চালায়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে একাধিক অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এর জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এবং এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, এই অভিযানের বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। খবর পাওয়ার পর তিনি জেলা প্রশাসন এবং কলকাতায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বিধায়ক বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধ দখল সমর্থনযোগ্য নয়, তবে উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, আচমকা অভিযান চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং বহু মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বহু মানুষের ফোন আসছিল এবং বুলডোজার অভিযানের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করা হচ্ছিল, যার উত্তর তাঁর কাছেও ছিল না। তিনি মানুষকে আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেন এবং পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করছেন।
অভিযান আপাতত বন্ধ হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, বিধায়ক তাঁদের হয়ে কথা বলে অভিযান থামানোর চেষ্টা করেছেন। তবে যদি এই উদ্যোগ আগে নেওয়া হতো, তাহলে তাঁদের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি এড়ানো যেত। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় বা আগাম নোটিস না দিয়েই হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে তাঁদের জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারদের দুর্গাপূজা পর্যন্ত নিজে থেকে দখল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তবে রাস্তার ধারে সরকারি জমিতে থাকা এবং যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের অসুবিধার কারণ হয়ে ওঠা দখলদারদের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখল না সরালে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে ১৫ দিনের সময় দেওয়ার ঘোষণা করা হলেও শুক্রবার সকালেই বুলডোজার অভিযান শুরু হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাঁদের বক্তব্য, ১৫ দিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৪ ঘণ্টাও সময় দেওয়া হয়নি।
এদিকে, এই ঘটনায় কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতা-কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখান এবং উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সকলের নজর রয়েছে।





