ভিডিও

রাতের অন্ধকারে ডিজেল মজুতের অভিযোগ, তৃণমূল নেতার গোডাউন ঘিরে উত্তেজনা নিমচায়

নির্ভীক বাংলা,আসানসোল: রানীগঞ্জের নিমচা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় রাতের অন্ধকারে ডিজেল পাচারের কাজ চলছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে গোডাউনে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ডিজেল মজুতের বিষয়টি সামনে আনেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির উপ-সভাপতি এবং ইসিএলের তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সাবির মিয়া। স্থানীয়দের দাবি, একটি ক্লাবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল পাচারের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের ত্রাণ তহবিলের ত্রিপলও গোডাউনে মজুত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের তিনটি গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গোডাউনে ডিজেল মজুত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে একটি ঘর এখনও খোলা হয়নি বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানীগঞ্জ থানার নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। বিপুল পরিমাণ ডিজেল কোথা থেকে এসেছে, কী উদ্দেশ্যে তা মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারে, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ডাকাতি, বোমাবাজি, মারধর, লুটপাট এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেল মজুত ও সম্ভাব্য পাচারচক্রের সঙ্গে অন্য কেউ বা কোনও সংস্থা যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এলাকার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে ইসিএলের কয়েকজন আধিকারিকের মদতেই এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। তবে এই অভিযোগেরও এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ মেলেনি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

TAGS

সম্পর্কিত খবর