ভিডিও

মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই বাড়ি ও পোশাকের দোকান, দগ্ধ ৩

নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস, আসানসোল: সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন আছড়া গ্রামে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি তিনতলা বাড়ি ও নিচতলায় থাকা পোশাকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসানসোল-চিত্তরঞ্জন সংযোগকারী সামডি রোডের ধারে আছড়া গ্রামের বাসিন্দা উদয় ঘোষের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় একটি বড় পোশাকের দোকান ছিল। আসন্ন দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে দোকানে বিপুল পরিমাণ নতুন পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী মজুত করা হয়েছিল।
শনিবার রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ আচমকাই দোকানে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখতে পেয়ে উদয় ঘোষ বাড়ির ভেতরের দিকের দরজা খুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আগুনের তীব্র শিখা ও উত্তাপে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী পম্পা ঘোষ গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের দু’জনেরই পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। আগুনে তাঁদের ১২ বছরের ছেলের একটি হাতও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর পেয়ে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ছাদ থেকে তিনজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁদের পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে আসানসোলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
অগ্নিকাণ্ডে দোকানের সমস্ত পোশাক, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাড়িরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুজোর মরসুমের আগে ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, উদয় ঘোষের স্ত্রী পম্পা ঘোষ গত মেয়াদে সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত সদস্যা ছিলেন। যদিও বর্তমানে তাঁরা সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। ফলে এই অগ্নিকাণ্ড শর্ট সার্কিটজনিত দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনার পর রূপনারায়ণপুর এলাকায় একটি স্থায়ী দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দমকল কেন্দ্র না থাকায় দূর থেকে ইঞ্জিন পৌঁছাতে দেরি হয় এবং ততক্ষণে আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। অবিলম্বে এলাকায় দমকল কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর