‘নির্ভীক বাংলা,
প্রয়াত হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রবিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় জমান দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। All India Trinamool Congress-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের সময় থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার সদস্যও হন।
২০১৮ সালে তিনি যোগ দেন Bharatiya Janata Party-এ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে তিনি পুনরায় তৃণমূলে ফিরে এলেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি, ফলে খাতায়-কলমে বিজেপি বিধায়ক হিসেবেই বহাল ছিলেন।
তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। Calcutta High Court বিধায়ক পদ খারিজের রায় দিলেও সেই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয় Supreme Court of India। ফলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিধায়ক পদে বহাল ছিলেন।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দলবদল ও কৌশলী সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তিনি ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ নামে পরিচিতি পান। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেলেও শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর নাম ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা চলেছে।
তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা শোকবার্তা জানিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।





