নির্ভীক বাংলা, শ্যাম দাস আসানসোল:
বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া ঘাট এলাকায় দামোদর নদী থেকে বালি উত্তোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, বৈধ লিজ থাকলেও নদীর মাঝখানে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে প্রবাহ ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কোনও অধিকার ঠিকাদার সংস্থার নেই।
অভিযোগ অনুযায়ী, কে কে মিনারেলস নামে একটি কোম্পানিকে বালি উত্তোলনের ঠিকাদারি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর মাঝখানে বাঁধ নির্মাণ করে যেভাবে বালি তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অবৈধ খননের ফলে নদীর জলস্তর ক্রমশ কমে যাচ্ছে, যার জেরে আশেপাশের এলাকায় জলসংকট তীব্র হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালাঝরিয়া এলাকার পানীয় জলের পাইপলাইনের পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালি উত্তোলনের জেরে। পাশাপাশি বল্লভপুরের মেজিয়া ঘাট শ্মশানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে দাহের পর ছাই স্বাভাবিকভাবে নদীতে বিসর্জন দেওয়া যাচ্ছে না, যা ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরে কে কে মিনারেলসের দফতরে প্রবर्तन निदेशालय (ইডি) অভিযান চালায় বলে খবর। বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় কিরণ খান ও চিন্ময় মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
অগ্নিমিত্রা পাল প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, অবৈধ খনির বিরুদ্ধে কার্যত কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং উত্তোলিত বালি অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দামোদর নদী-এ অবৈধ বালি উত্তোলন রুখতে কতটা সক্রিয় হয়।




