ভিডিও

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বদলে গেল আসানসোলের প্রবেশদ্বার, কালী পাহাড়ি থেকে সরানো হল ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব

নির্ভীক বাংলা,আসানসোল : রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শহরের পরিচয় ও সরকারি প্রতীকগুলির উপরেও। শিল্পনগরী আসানসোলের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার কালী পাহাড়িতে লাগানো “বিশ্ব বাংলা”-র বিশাল গ্লোব মঙ্গলবার সরিয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এখন সকলের নজর, আগামী দিনে শহরের এই প্রবেশদ্বারকে কী নতুন রূপ দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, কালী পাহাড়ি দীর্ঘদিন ধরেই আসানসোল শহরের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগে এখানে “City of Brotherhood” লেখা একটি বিশাল প্রবেশদ্বার ছিল, যা শহরের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করত। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে সেই পুরনো কাঠামো বদলে “বিশ্ব বাংলা” থিমে নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়। তার উপরে বসানো হয় “বিশ্ব বাংলা” গ্লোব, যা রাজ্য সরকারের ব্র্যান্ডিং ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল।
মঙ্গলবার গ্লোব সরানোর কাজ শুরু হতেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচলতি মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেন। রাজনৈতিক মহলেও এই পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। একাংশের মতে, এটি নতুন সরকারের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরার প্রচেষ্টা। আবার অন্যদের মতে, শহরের সৌন্দর্যায়ন ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার স্টেট কমিটির সদস্য ও পুরুলিয়া বিভাগের কনভেনর রাহুল সিং জানান, নতুন প্রবেশদ্বারের ডিজাইন ও নাম নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজ্য স্তর থেকে নির্দেশ পাওয়ার পরই পরবর্তী রূপরেখা স্থির হবে। তিনি বলেন, নতুন সরকার শহরের শিল্প ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন ডিজাইন তৈরি করতে পারে।
রাহুল সিং আরও বলেন, বাংলার রাজনীতিতে প্রতীকের গুরুত্ব সবসময়ই বিশেষ। তাই “বিশ্ব বাংলা” গ্লোব সরিয়ে দেওয়াকে শুধু একটি কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক ভাবনার পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে কালী পাহাড়ির এই পরিবর্তিত রূপ এখন গোটা আসানসোলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জয় চৌরাসিয়া, সুমন্ত বাউরি, আশীষ বাউরি এবং শিবম

TAGS

সম্পর্কিত খবর