শ্যাম দাস, নির্ভীক বাংলা,
আসানসোল: কয়লা পাচার মামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডলকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করল Enforcement Directorate (ইডি)। শনিবার সকালে তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর।
একইসঙ্গে দুর্গাপুরের বাসিন্দা বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তকেও তলব করা হয়েছে। প্রবীর দত্তকে এই প্রথমবার ডাকা হল বলে জানা গেছে।
এর আগে গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইডি সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠিয়েছিল রানিগঞ্জ ও দুর্গাপুরের কয়লা ব্যবসায়ী মামা–ভাগ্নে চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ-কে। সেদিন মনোরঞ্জন মণ্ডলকেও তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি বলে ইডি সূত্রে দাবি। সেই কারণেই তাঁকে শনিবার ফের ডাকা হয়েছে।
সোমবার দিনভর জেরার পর রাতে চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ-কে গ্রেফতার করে ইডি। অভিযোগ, তাঁরা জেরায় অসহযোগিতা করেছেন এবং একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। পরদিন আদালতে পেশ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইডি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাঁদের।
দুই কয়লা ব্যবসায়ী হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক পুলিশ অফিসার ও এক বালি ব্যবসায়ীকে তলব করাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে তদন্ত মহল।
প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার মামলায় ইডির স্ক্যানারে থাকায় গত মঙ্গলবার আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট-এর বুদবুদ থানার ওসির পদ থেকে সরানো হয় মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে কমিশনারেটের এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ)-এ। পুলিশ কমিশনারের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়, গত ২৭ জানুয়ারি তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি পদে পাঠানোর নির্দেশ বাতিল করা হচ্ছে।
তাঁর পরিবর্তে বুদবুদ থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ির আইসি লাল্টু কুমার পাখিরাকে।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরে মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। সেদিন মোট ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতায় দায়ের হওয়া নতুন একটি কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে জানানো হয়েছে।
এখন দেখার, দ্বিতীয় দফার তলবে মনোরঞ্জন মণ্ডল শনিবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন কিনা এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে।




