ভিডিও

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই জেলা সভাপতির পদে ইস্তফা, পশ্চিম বর্ধমানে রাজনৈতিক জল্পনা

নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ১৯ জুন : পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
গত ১৩ জুন তাঁকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার তিনি দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-কে চিঠি দিয়ে পদত্যাগের কথা জানান। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি পুনরায় জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার খবর জানতে পারেন। তবে বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে ওই দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি চর্চার কারণ, পদত্যাগের ঠিক আগে তিনি কলকাতায় গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, বিধানসভায় দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। এরপরই জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন নরেন্দ্রনাথ।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, জেলায় দলের ৪৭৬ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি একা কিছু করতে পারছেন না এবং পাশে কাউকেই পাচ্ছেন না।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনের সময় থেকে তাঁদের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসেই তো আছি।” যদিও তিনি কোন তৃণমূল কংগ্রেসের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা সভাপতির পদত্যাগ এবং তার আগে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ— এই দুই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং দল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী অবস্থান গ্রহণ করে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর