ভিডিও

নির্ভীক বাংলা, শ্যাম দাস, আসানসোল,১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: অবৈধ কয়লা খনন ও চুরির সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচার মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল Enforcement Directorate (ইডি)। ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী ১০০.৪৪ কোটি টাকার সম্পদ অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অনুপ মাজি ওরফে ‘লালা’-র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্র Eastern Coalfields Limited (ইসিএল)-এর লিজ এলাকায় বৃহৎ আকারে অবৈধ কয়লা খনন ও চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
‘লালা প্যাড’ ও অভিনব কৌশল
ইডি সূত্রে জানা গেছে, অনুপ মাজি ‘লালা প্যাড’ নামে একটি অবৈধ পরিবহন পদ্ধতি চালু করেন। ভুয়ো সংস্থার নামে ট্যাক্স ইনভয়েস তৈরি করে কয়লা পরিবহণ করা হত।
সিন্ডিকেটটি নিরাপত্তা এড়াতে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করত—ট্রাকচালকদের ১০ বা ২০ টাকার নোট দেওয়া হত। চালক নম্বর প্লেটসহ সেই নোটের ছবি তুলে অপারেটরকে পাঠাতেন। এরপর সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়া হত, যাতে ট্রাকটি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
২,৭৪২ কোটি টাকার ‘কালো সাম্রাজ্য’
ইডির তদন্তে দাবি, এই সিন্ডিকেট প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করেছে। হাওলা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হত। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে মুদ্রা নোটের সিরিয়াল নম্বরকেই প্রমাণীকরণ ‘কী’ হিসেবে ব্যবহার করা হত। প্রাপক সেই নির্দিষ্ট নম্বরের নোট দেখিয়ে নগদ গ্রহণ করতেন—ফলে ব্যাংকিং রেকর্ড তৈরি হত না।
কোন সংস্থা জড়িত?
তদন্তে আরও জানা গেছে, ইস্পাত ও লৌহ খাতের কিছু সংস্থা নগদে অবৈধ কয়লা কিনে এই পাচারচক্রকে সহায়তা করেছে। বাজেয়াপ্ত সম্পদের তালিকায় রয়েছে:
Shakambhari Ispat and Power Limited
Gagan Ferrotech Limited
এই সংস্থাগুলির স্থাবর সম্পত্তি, স্থায়ী আমানত এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই মামলায় বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২২.৭১ কোটি টাকা।
ইডির বক্তব্য
ইডির তরফে জানানো হয়েছে, “প্রাকৃতিক সম্পদ জনসাধারণের সম্পত্তি। অবৈধ খনন ও অর্থ পাচার জনস্বার্থের পরিপন্থী। এই অর্থনৈতিক অপরাধের প্রতিটি স্তর উন্মোচনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

TAGS

সম্পর্কিত খবর