নির্ভীক বাংলা,রানিগঞ্জ: রানিগঞ্জের রনাই এলাকায় আসানসোল পুরনিগমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কবরস্থানের জমি দখল করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন রানিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পার্থ ঘোষ।
বিধায়ক পার্থ ঘোষ দাবি করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার কথা বললেও বাস্তবে তৃণমূল কংগ্রেস কবরস্থানের জমি দখল করে সেখানে দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশ্চর্যজনক ঘটনা। বিজেপি আর এই ধরনের কার্যকলাপ মেনে নেবে না।”
বিজেপি বিধায়ক তৃণমূল নেতৃত্বকে স্বেচ্ছায় ওই কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর আখতারি খাতুন জানান, যদি প্রমাণিত হয় যে দলীয় কার্যালয়টি কবরস্থানের জমিতে নির্মিত হয়েছে, তাহলে সেটি সরিয়ে নিতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমি নিজেই কার্যালয়ের সমস্ত জিনিসপত্র সরিয়ে বিজেপি বিধায়কের হাতে চাবি তুলে দেব।”
তবে ওই জমি যে কবরস্থানের অন্তর্গত, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও জানান। আখতারি খাতুনের দাবি, ২০১১ সালের আগে ভবনটি সিপিএমের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হত। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেটি তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি ২০১৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিই। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে এই কার্যালয় থেকেই সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছি। যদি সত্যিই এটি কবরস্থানের জমিতে হয়ে থাকে, তাহলে আমি সেটি খালি করে দেব। আমার কাউন্সিলর হিসেবে মেয়াদ আর কয়েক মাস বাকি রয়েছে। প্রয়োজনে নিজের বাড়ি থেকেই মানুষের কাজ করব।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রানিগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।





