ভিডিও

যুবতীর পরিবারের মানসিক চাপ! সালানপুরে যুবকের আত্মহত্যা, থানা ঘেরাও করে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

নির্ভীক বাংলা,সালানপুর: প্রেমিকার পরিবারের লাগাতার মানসিক অত্যাচার ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক যুবক। মৃতের নাম বিক্রম বাউরি (২১)। তিনি সালানপুরের ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার গভীর রাতে সালানপুরের পঞ্চানন আশ্রমের কাছে একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ পরিবার ও গ্রামবাসীরা ময়নাতদন্তের পর যুবকের মৃতদেহ নিয়ে সালানপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে ক্ষুদিকা গ্রামের বাসিন্দা বিক্রম বাউরি নিয়ামতপুরের এক ১৭ বছরের নাবালিকার সঙ্গে ঘর ছাড়েন এবং প্রেম করে বিয়ে করেন। তবে মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিক্রমকে গ্রেফতার করে এবং তাঁকে জেল হেফাজতে থাকতে হয়।
সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান বিক্রম। পরিবারের দাবি, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বিষয়টির মীমাংসার জন্য মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই মেয়েটির পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিক্রমের উপর মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। পাশাপাশি চলছিল লাগাতার মানসিক নির্যাতন। পরিবারের অভিযোগ, এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই শুক্রবার রাতে পঞ্চানন আশ্রমের কাছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বিক্রম।
সূত্রের খবর, আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে বিক্রম তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রেমিকার পরিবারের তরফে আসা চাপ ও হুমকির কথা জানান বলে দাবি।
মৃতের পরিবারের দাবি, জেল থেকে মুক্তির পর থেকেই বিক্রমকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং তাঁর কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করা হচ্ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এই মানসিক চাপের জেরেই বিক্রম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। তাঁরা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
শনিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হতেই ক্ষুদিকা গ্রামের শয়ে শয়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা বিক্রমের মৃতদেহ নিয়ে সালানপুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার আধিকারিকরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ আশ্বাস দেয়, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং মৃত্যুর পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ তুলে নেন এবং মৃতদেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সালানপুর থানার পুলিশ।

TAGS

সম্পর্কিত খবর