ভিডিও

বালু উত্তোলন ঘিরে ক্ষোভ, শ্মশানঘাটের অস্তিত্ব সংকটের অভিযোগে সরব গ্রামবাসী

নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ৭ জুন: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বরাবনি থানার শ্যামাপুর এলাকার একটি বালুঘাটকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে নদীর মাঝখানে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি আদিবাসী ও দাস সমাজের বহু বছরের পুরনো শ্মশানঘাটও সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুঘাট পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম ঘটছে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের দাবি, নদীর মাঝখানে একসঙ্গে একাধিক পোকলেন মেশিন নামিয়ে ব্যাপক পরিমাণে বালু তোলা হচ্ছে এবং তা ট্রাক ও হাইভা গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ, যে এলাকায় এই খননকার্য চলছে তার কাছেই বিন্দুডিহ ও শ্যামাপুর গ্রামের আদিবাসী এবং দাস সমাজের ব্যবহৃত শ্মশানঘাট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই শ্মশানঘাটে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শেষকৃত্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আসছেন। কিন্তু লাগাতার খনন এবং ভারী যন্ত্রের ব্যবহারের কারণে সেই ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, বালু ব্যবসায়ী পাঠকের তত্ত্বাবধানে এই খননকার্য পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে রাজ্য ও দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক মহলেও লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। তবে অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার দিকে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর