নির্ভীক বাংলা, আসানসোল :
আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্বকে দেখা গেল মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে।
কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ড. অজয় পোদ্দার দিন শুরু করেন বরাকরের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে। এরপর নিয়ামতপুর দেবী মন্দিরসহ একাধিক ধর্মীয় স্থানে গিয়ে প্রার্থনা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশ। ড. পোদ্দার জানান, মানুষের সমর্থন ও আশীর্বাদই তাঁর মূল শক্তি এবং তিনি আশাবাদী কুলটির মানুষ তাঁকে আবারও সেবা করার সুযোগ দেবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কর্মসূচি কর্মীদের মনোবল বাড়ানো ও ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে আসানসোলে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরেই একই ছবি। আসানসোল পুরসভার বরো চেয়ারম্যান ড. দেবাশীষ সরকার ঘাঁগর বুড়ি মন্দিরে পুজো দিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং ফল ঘোষণার আগে শুভ প্রার্থনা জানান।
এদিকে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল বানপুর টাউন হলের কালী মন্দিরে পুজো দেন। ড. সরকারের পুজো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি কটাক্ষও করেন, যা রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিয়েছে।
দুর্গাপুরেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই মায়াবাজার শিব মন্দির, গোপালমাঠ শিবশক্তিধাম এবং ভিরিঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে পুজো দেন। তিনি জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা হবে—এই প্রার্থনাই করেছি, উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
গণনার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকায় কুলটি থেকে আসানসোল ও দুর্গাপুর—সমগ্র শিল্পাঞ্চলের নজর এখন ইভিএম খোলার দিকে। কে পাবে জনসমর্থনের চূড়ান্ত রায়, সেটাই এখন দেখার।





