নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ৩০ জুন: আসানসোলের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কালিপাহাড়ির বাঘবন্দি এলাকার একটি বেসরকারি কারখানায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে মৃত শ্রমিকের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। ঘটনাস্থলে বিজেপি নেতারাও পৌঁছে পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
মৃত শ্রমিকের নাম মুন্না ওরফে মান্না সাউ (৩৮)। তিনি আসানসোল দক্ষিণ থানার কালিপাহাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যেই কারখানায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মুন্না সাউ। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, কারখানা চত্বরে বিভিন্ন স্থানে খোলা বৈদ্যুতিক তার পড়ে ছিল। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানায় ইএসআই, পিএফ-সহ প্রয়োজনীয় শ্রমিক সুবিধা দেওয়া হয় না। ওভারটাইম ও মজুরি নিয়েও অতীতে একাধিকবার শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ হয়েছে।
ঘটনার পর মৃতদেহ কারখানার বাইরে রেখে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভকারীরা মৃতের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মৃত শ্রমিকের ভাইপো বিজয় সাউ অভিযোগ করেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের পরিবারের কাউকে দুর্ঘটনার খবর দেয়নি। কাকার সঙ্গে কর্মরত এক সহকর্মীর কাছ থেকে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর দাবি, ওই সহকর্মীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন, তবে প্রাণে বেঁচে যান।
বিজেপি যুব মোর্চার নেতা রাহুল সিনহা বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের তোলা অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





