ভিডিও

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, খুনের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে; আটক স্বামী ও শ্বশুর

নির্ভীক বাংলা , অন্ডাল: পাণ্ডবেশ্বর থানার কুমারডিহি গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, মৃতার পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত খুন। ঘটনার জেরে মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম মৌমিতা রুইদাস। ২০১৮ সালে অন্ডাল থানার দক্ষিণখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা মৌমিতার বিয়ে হয় পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি গ্রামের বাসিন্দা মনোজ রুইদাসের সঙ্গে। তাঁদের একটি নয় মাসের সন্তান রয়েছে।
বুধবার সকালে বাড়ির ছাদে কাপড় মেলতে গিয়ে মৌমিতা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে জানা যায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ মৃতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মৌমিতার উপর শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য তাঁর উপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ।
মৃতার আত্মীয় বিশাল রুইদাস জানান, কিছুদিন আগে মৌমিতার স্বামী মনোজ রুইদাস তাঁর শাশুড়ির কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে দেওয়া হলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় মৌমিতার সঙ্গে তাঁর মায়ের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, বুধবারের ঘটনার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
মৃতার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, “আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। প্রতিদিনই সে ছাদে কাপড় মেলতে যেত। কিন্তু সেদিন এমন কী ঘটল যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হল? ঘটনার সময় বাড়িতেও কেউ ছিল না।”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃতার স্বামী মনোজ রুইদাস। তাঁর দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল। তাঁদের নয় মাসের সন্তান গুরুতর অসুস্থ এবং তার চিকিৎসা ভেলোরে চলছে। আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি শ্বশুরবাড়ির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করলেও, স্ত্রীর মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর বা পরিবারের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেন।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর