নির্ভীক বাংলা,
আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দুর্নীতি, অবৈধ ব্যবসা এবং রাজনৈতিক দাদাগিরির অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বারাবনি বিধানসভা এলাকার রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সহ-সভাপতি ভোলা সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হেলমেট পরিয়ে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়।
ভোলা সিংয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ পাথর খাদান পরিচালনা, অবৈধ বালি পাচার, তোলাবাজি, মারধর, হুমকি এবং সম্পত্তি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে বিনীত সিং, অমিত সিং এবং অখিলেশ প্রসাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতে আনার সময় ভোলা সিংকে দেখে উপস্থিত জনতার একাংশ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয় এবং তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয় বলে জানা গেছে।
রূপনারায়ণপুরের রঙ্গামাটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং হিন্দুস্তান কেবলস লিমিটেড (এইচসিএল)-এর প্রাক্তন কর্মী তপন চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে সালানপুর থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিবহণ ব্যবসা চালানোর জন্য তাঁর কাছে জোর করে টাকা দাবি করা হয়। সেই দাবি পূরণ না করায় তাঁকে মারধর করা হয়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর একটি ট্রাকও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
তপন চক্রবর্তীর দাবি, ১৯ জুলাই ২০২৩ তাঁকে চাপ দিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটের নথিপত্রে সই করিয়ে সম্পত্তি অন্যের নামে লিখিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাঁকে একাধিকবার স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করা হয় এবং ভোলা সিংয়ের উপস্থিতিতে মারধর করা হয়।
অভিযোগকারীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও মারধর করে। প্রধান অভিযুক্ত বিনীত সিংয়ের বিরুদ্ধে তপনবাবুর স্ত্রীকে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানায় মিথ্যা ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সালানপুর থানায় মামলা নম্বর ১০২/২৬ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৬(২), ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ১২৬(২), ১১৫(২), ৩০৮(৩), ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় রুজু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, ভোলা সিংকে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র ও বারাবনির প্রাক্তন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও বিধায়ক তহবিল-সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত ছিল।
রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে নজর
ভোলা সিংয়ের গ্রেফতারের পর রূপনারায়ণপুর, সালানপুর এবং বারাবনি এলাকার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা এটিকে আইনের শাসনের প্রত্যাবর্তন বলে দাবি করলেও, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত যত এগোবে, এই মামলার রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব নিয়েও ততই জোরদার হবে জল্পনা।





