ভিডিও

জল্পনার অবসান: অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে ‘বিদ্রোহী’ সিপিএম নেতা প্রতীকুর রহমান

বাইজিদ মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীকুর রহমান। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় দলীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি।
গত রবিবারই Communist Party of India (Marxist)-এর সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন প্রতীকুর। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। আলিমুদ্দিনের তরফে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা এবং বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু-র উদ্যোগ—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে Diamond Harbour Lok Sabha constituency কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন প্রতীকুর রহমান। দু’বছর পর সেই অভিষেকের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা তুলে নেওয়া নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার ও যাদবপুরের একাধিক এরিয়া কমিটির সম্পাদক-সদস্য এবং জেলা কমিটির কয়েকজন সদস্যও তাঁর সঙ্গে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সম্প্রতি এক ভাষণে প্রতীকুরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমার অনুভূতি সন্তান হারানোর শোকের মতো।” তিনি জানান, সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যে কর্মীদের ওপর ভরসা ছিল, তাঁদের মধ্যে প্রতীকুর অন্যতম ছিলেন।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর প্রতীকুর রহমান দাবি করেন, কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এবং বিজেপিকে রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই আদর্শগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “সিপিএমের যত মিছিল-প্রতিবাদ দেখা যায়, মাঠে-ঘাটে যাঁদের সক্রিয়ভাবে দেখা যেত, তাঁদের মধ্যে প্রতীকুর অন্যতম। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, মানুষের জন্য রাজনীতি করেন এমন কর্মীদের জন্য আমাদের দরজা খোলা।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এই দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

TAGS

সম্পর্কিত খবর