নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ১১ জুলাই:
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশকে সামনে রেখে শনিবার আসানসোলে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক, বর্ধমান–দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ, ভি. শিবদাসন (দাসু), প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিং, তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বরুণ মণ্ডল-সহ জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা।
বৈঠকে ২১ জুলাই কলকাতার শহিদ দিবসের সমাবেশে পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বুথস্তরে কর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নানা বাধা, পুলিশি চাপ ও ভয়ভীতি সত্ত্বেও কর্মীরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এদিন সকালে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় কার্যালয়ে এসে বৈঠক বানচালের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে পুলিশি রাজ চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় কার্যালয়ে হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপির পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশই যেন দল চালাচ্ছে।”
দলত্যাগী তৃণমূল নেতা-জনপ্রতিনিধিদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন।
দলের কয়েকজন নেতা অন্য শিবিরে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি দল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে প্রকাশ চিক বরাইকের বিজেপিতে যোগদান নিয়েও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, “প্রকাশকে ওদেরই এক মন্ত্রী একসময় ‘বালি চোর’ বলেছিলেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে এবং আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ সফল করতে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিনের বৈঠকে দেখা যায়নি বিদায়ী জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বিদায়ী মেয়র বিধান উপাধ্যায় এবং দুই ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক ও ওয়াসিমুল হককে। রাজনৈতিক মহলে এই অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।





