নির্ভীক বাংলা:
পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। রাজ্যজুড়ে বর্তমানে চলছে এসআইআর (Special Summary Revision), যার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই উদ্যোগ ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে এর থেকেও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর গ্রহণযোগ্যতা।
২০১১ সালে “মা–মাটি–মানুষ”-এর স্লোগানকে সামনে রেখে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিনবার রাজ্যের শাসনভার সামলাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ শাসনকালে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সমালোচনা সত্ত্বেও সরকারের একাধিক জনমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।
জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শক্ত ভিত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলি শহর থেকে গ্রাম—সব স্তরের মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হল—
কন্যাশ্রী: মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সবুজ সাথী: রাজ্যের স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল প্রদান করে শিক্ষা ক্ষেত্রে উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
স্বাস্থ্যসাথী: রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় এনে চিকিৎসা পরিষেবায় বড় স্বস্তি দিয়েছে।
দুয়ারে সরকার: সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এক অভিনব প্রশাসনিক উদ্যোগ।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাসিক ভাতা প্রদান, যা বিশেষ করে গ্রামবাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পগুলির সরাসরি সুবিধা প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বিপুল, যা ভোটারদের মানসিকতায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
ত্রুটি ও চ্যালেঞ্জের বাস্তবতা
একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। এই সমালোচনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার নয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযোগগুলি এখনো পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সরকারের জনভিত্তিকে বড় ধাক্কা দিতে পারেনি।
চতুর্থবারের সম্ভাবনা কতটা বাস্তব?
২০১১, ২০১৬ ও ২০২১—টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। উন্নয়নমূলক কাজ, জনকল্যাণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
বিরোধীদের লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিজেপি, সিপিআইএম ও কংগ্রেস—সব বিরোধী দলই নিজেদের কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী জনভিত্তি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বিরোধীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, সংগঠনের শক্তি এবং সাধারণ মানুষের আস্থা—এই তিন স্তম্ভের উপর ভর করেই চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
✨ বিরোধীদের কৌশল, ভোটার তালিকা সংশোধন ও জনমতের সূক্ষ্ম পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন হতে চলেছে রাজনীতির এক উচ্চভোল্টেজ মঞ্চ।








