বাইজিদ মন্ডল:
লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের উপর আলোচনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বদলে কেবল হেডলাইন তৈরির চেষ্টা করেছে এবং গরিব ও মধ্যবিত্তের উপর ‘ট্রিপল ট্যাক্স’-এর বোঝা চাপিয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, সরকার ‘উল্টো রবিনহুড’ নীতি অনুসরণ করছে—কর ও মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে গরিবদের নিঃস্ব করা হচ্ছে, আর করছাড় ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে ধনীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এক কাপ চায়ের উপর জিএসটি থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি নানা শর্ত ও জটিলতার বেড়াজালে আটকে।
বাজেট বক্তৃতায় বাংলার সম্পূর্ণ উপেক্ষা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তৃতায় একবারের জন্যও পশ্চিমবঙ্গের নাম উচ্চারিত হয়নি। ডানকুনি ফ্রেট করিডোরের কৃতিত্ব নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি জানান, প্রকল্পটি তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। এমএনরেগা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা এবং জল জীবন মিশনের অর্থ আটকে দেওয়ার ফলে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বলা বা ‘জয় বাংলা’ বললেই কাউকে সন্দেহভাজন বা অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় কথা বললে কি কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায়? মাছ খেলে কি কেউ মোঘল হয়ে যায়?”
‘ট্রিপল ট্যাক্স, ট্রিপল চাপ এবং ট্রিপল প্রতারণা’-র তত্ত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে আয়কর, জিএসটি এবং মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে তিনবার কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মধ্যবিত্তের সঞ্চয় তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষক ইস্যুতে অভিষেক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন, অথচ এমএসপি-কে এখনও আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি চুক্তি করে ভারতীয় কৃষকদের আরও কোণঠাসা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা, যুব কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দের ঘাটতি নিয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “এই বাজেট সংস্কার নয়, এটা আজীবন করের এক মরণফাঁদ।”
বক্তব্যের শেষে অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফাইল আটকে রাখা যায়, তহবিল আটকে রাখা যায়, কিন্তু মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না। ব্যালটেই মানুষ এর জবাব দেবে।”








