*
বাঁকুড়া(কেঞ্জাকুড়া):-কথিত আছে নারায়ণ একদা নারদ মুনির সাথে বাঁকুড়ার ওপর দিয়ে কোথাও একটা রওনা দিচ্ছিলেন। ভগবান নারায়ণের কানে গিয়েছিল চড়চড় আওয়াজ,তড়িঘড়ি নারায়ন নারদ মুনিকে জিজ্ঞেস করেছিল কিসের আওয়াজ দেবর্ষি?নারদ মুনি উত্তর দিয়েছিলেন প্রভু বাঁকুড়ার লোকেরা মুড়িতে জল ঢেলেছে। এই তথ্য কতটা সঠিক তা স্পষ্ট না হলেও। হ্যাঁ মুড়িকে কেন্দ্র করেই বসে মেলা যা মুড়ি মেলা নামে খ্যাত।
রেওয়াজ ১০০ বছরের বেশী। তবে উচ্ছ্বাস একই রকমই আছে।রবিবার বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের চরে মুড়ি মেলায় মাতলেন হাজার হাজার মানুষ। নদের চরে বালিতে গর্ত করে জল সংগ্রহ করে তা ছিটিয়ে রসিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মুড়ি খেলেন আট থেকে আশি।বাঁকুড়া জেলার সুপ্রাচীন এক জনপদ কেঞ্জাকুড়া সেখানেই ভিড় জমালেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থী।
বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় মুড়ি মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো। কী ভাবে এমন ‘অদ্ভুত’ মেলা শুরু? কেঞ্জাকুড়ায় দ্বারকেশ্বর নদের পাড়েই রয়েছে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রম। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে হরিনাম সংকীর্তন শুরু হয় এখানে। শেষ হয় মাঘের ৪ তারিখ। আগে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সংকীর্তন শুনতে হাজির হতেন আশ্রমে। কথিত আছে, সে সময় কেঞ্জাকুড়া ছিল ঘন বনজঙ্গলে ঢাকা। হরিনাম শুনে সন্ধ্যা গড়িয়ে যেত। তার পর জঙ্গল পার করার কেউ সাহস দেখাতেন না। পরের দিন সকালে সঙ্গে আনা শুকনো মুড়ি দ্বারকেশ্বরের জলে ভিজিয়ে তা খেয়ে বাড়িতে ফিরতেন তাঁরা।
অতীতের সেই প্রয়োজন আজ আর না থাকলেও মুড়ি খাওয়ার ‘রেওয়াজ’ এখন উৎসবের চেহারা নিয়েছে। এখন আর শুধু হরিনাম সংকীর্তন শুনতে আসা মানুষ নন, কেঞ্জাকুড়া-সহ আশপাশের অন্তত কুড়িটি গ্রামের মানুষজন পরিবারের সবাইকে নিয়ে ৪ মাঘ দ্বারকেশ্বরের চরে চলে আসেন। সঙ্গে নেন মুড়ি। শীতের মিঠে রোদ পিঠে লাগিয়ে চলে জমিয়ে মুড়ি খাওয়া। মুড়ির অনুষঙ্গ হিসাবে তাঁরা সঙ্গে আনেন চপ, বেগুনি কিংবা অন্য কোনও তেলেভাজা। থাকে লঙ্কা, ঘুগনি, পেঁয়াজ, শসা, নারকেল, টম্যাটো, চানাচুর, তিল, নারকেল নাড়ু ইত্যাদি।
এই সঞ্জীবনী মাতা আশ্রম কমিটির মেম্বার তথা এই মুড়ি মেলার কনভেনার পার্থ চন্দ জানান, অসংখ্য মানুষ এখানে ভিড় জমান,প্রশাসনের সহায়তায়ও আমরা পাই। ফি বছর একইভাবে এই মেলা চলবে বলে তারা আশাবাদী।
এই মুড়ি মেলায় আগত উন্নতিরা কেউবা প্রথম কেউবা আসছেন প্রতিবছর।তবে এই মেলা কে কেন্দ্র করে তাদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ার মতো।
বাইট:-
১)পার্থ চন্দ (মেলা কমিটির কনভেনার)
২)তানিয়া খাঁ (আগত পুন্যার্থী)
৩)মল্লিকা গরাই(আগত পুন্যার্থী)
৪)চন্দন চ্যাটার্জী(আগত পুন্যার্থী)







