নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস, আসানসোল
।
গত ১৯ জানুয়ারি আসানসোল পৌরনিগমের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শালডাঙ্গা আদিবাসী পাড়ায় এক আদিবাসী মহিলাকে নির্যাতন ও জাত তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ-সহ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ জমা দেওয়ার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। রবিবার দুপুরে শ্যাম সোরেন ও সারপবন (পবন) কিসকু-র নেতৃত্বে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ আসানসোল উত্তর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান ও থানা ঘেরাও করেন।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পবন কিসকু জানান,
“১৯ তারিখ বিজেপির নেতা ও কর্মীরা আমাদের আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে মহিলাদের উপর অত্যাচার করেছে এবং জাত তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে। অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তাই অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
অন্যদিকে শ্যাম সোরেনের অভিযোগ,
“ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার পরেও কার ইশারায় বিজেপির নেতাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাইতেই আজ থানা ঘেরাও করা হয়েছে।”
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ পাল্টা দাবি করেন,
“বিজেপির ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি দেখে রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক ভয় পেয়ে গেছেন। আমি ১৯ জানুয়ারি শালডাঙ্গা-সহ বিভিন্ন আদিবাসী পাড়ায় প্রায় ২৫ হাজার কম্বল ও শাড়ি বিতরণ করেছি। সেই কারণেই চক্রান্ত করে শান্তিপ্রিয় ও সরল আদিবাসী মানুষদের উস্কে দিয়ে আমার গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও করানো হয়েছে।”
এই ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ





