নির্ভীক বাংলা,আসানসোল:
আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে আজ কড়া ভাষায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি। তিনি অভিযোগ করেন, সাফাই কর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে থাকলেও আসানসোল কর্পোরেশনের আধিকারিক, স্থানীয় বিধায়ক এবং শাসক দলের নেতৃত্বের কোনও হেলদোল নেই।
কৃষ্ণ মুখার্জির বক্তব্য,
“সাফাই কর্মীরা কাজ থেকে বিরত থাকলেও কর্পোরেশনের কর্তারা চুপচাপ ঘরে বসে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা কেউ মাঠে নেই। তারা এসি ঘরে বসে, এসি গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“সাধারণ মানুষ নিয়মিত কর্পোরেশনে ট্যাক্স দেন। তাহলে কেন তারা নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন? কেন সাধারণ মানুষের এই দুর্দশা হবে? প্রতিদিন সাধারণ মানুষ আমাদের ফোন করছেন, মেল করছেন, অফিসে এসে অভিযোগ জানাচ্ছেন—এই অব্যবস্থা থেকে তারা কবে মুক্তি পাবে?”
সাফাই কর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরে বিজেপি নেতা বলেন,
“সাফাই কর্মীরা সমাজের মেরুদণ্ড। তারা না থাকলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে না। এই মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কোনও দরকার নেই। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার দম্ভে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল—মন্ত্রী ও মেয়রের দ্বন্দ্বের ফলেই আসানসোলের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
“এই সিস্টেমটা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বই দায়ী,” বলেন কৃষ্ণ মুখার্জি।
কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন,
“কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই অনিয়ম ও চুরি চলছে। সেগুলো বন্ধ করে যদি সাফাই কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো যায়, তাদের বোঝানো যায়, ভয় দেখানো বন্ধ করা যায়—তাহলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“সাফাই কর্মীরা আজ প্রতিবাদ করছে, প্রতিরোধ করছে। ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের পাশে আছে। যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”





