ভিডিও

পূর্ব ভারতের ‘স্টিল করিডোর’-এ রেল সংযোগ, ফ্ল্যাগ অফ করলেন রেলমন্ত্রী

নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস | আসানসোল
আসানসোল, ৮ ফেব্রুয়ারি:
পূর্ব ভারতের শিল্প মানচিত্রে রবিবার এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। বহু প্রতীক্ষিত আসানসোল–বোকারো স্টিল সিটি মেমু (মেইনলাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো। এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই ট্রেনের ফ্ল্যাগ অফ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন বিকেলে আসানসোল রেলস্টেশনে রেল আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির যাত্রা সূচনা করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।
এই ডেডিকেটেড মেমু ট্রেন চালু হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে একটি দ্রুতগামী ও সাশ্রয়ী রেল করিডোর গড়ে উঠল। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক, পড়ুয়া ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার কার্যত অবসান ঘটল। এতদিন তাঁদের নির্ভর করতে হতো ব্যয়বহুল বাস পরিষেবা বা অনিয়মিত দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনের ওপর।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নতুন মেমু পরিষেবা পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বোকারোর মধ্যে একটি কার্যকর ‘স্টিল করিডোর’ তৈরি করেছে। বিশেষত দুই শিল্পনগরীর ‘সেল’ কারখানার কারিগরি কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য এটি একটি সরাসরি ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
দূরপাল্লার ট্রেনের মতো নয়, এই মেমু ট্রেনটি একাধিক ইন্টারমিডিয়েট ও ছোট হল্ট স্টেশনে থামবে। এর ফলে পুরুলিয়া ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা আসানসোল ও বোকারোর বড় শহুরে বাজারে সহজেই পণ্য নিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শতাধিক ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন আন্তঃরাজ্য সীমানা পেরিয়ে নামী কলেজ ও কোচিং সেন্টারে যাতায়াত করতে পারবে, যা হোস্টেল বা ভাড়াবাড়ির অতিরিক্ত খরচ কমাবে।
স্বল্পমূল্যের মাসিক সিজন টিকিট চালু হওয়ায় এই পরিষেবা দিনমজুর ও নিত্যযাত্রীদের জন্য দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াতকে আরও লাভজনক করে তুলবে। আগে যেখানে একাধিক বাস বদলাতে হতো এবং বেশি পরিবহন খরচ বহন করতে হতো, এখন সেখানে কম খরচে, নির্ভরযোগ্য রেল যোগাযোগ সম্ভব হবে।
নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকেও এই মেমু পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ। হাইওয়ে ট্রাফিক জ্যাম বা বর্ষাকালে ধসের সমস্যাকে এড়িয়ে এটি একটি সর্বকালীন বৈদ্যুতিক রেল করিডোর হিসেবে কাজ করবে, যা ঋতু নির্বিশেষে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করবে।
এছাড়াও, ছোট ও মধ্যবর্তী স্টেশনগুলিতে নিয়মিত যাত্রী চলাচল বাড়লে স্থানীয় দোকানপাট ও পরিষেবা খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে রেলের আশা। বর্ষাকালে রাস্তা বন্ধ থাকলেও রেল যোগাযোগ সচল থাকায় আঞ্চলিক অর্থনীতি নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার উদ্বোধনী বিশেষ ট্রেনটি আসানসোল থেকে যাত্রা শুরু করবে। নিয়মিত মেমু পরিষেবা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (রবিবার ব্যতীত) থেকে চালু হবে।
ট্রেনের সময়সূচি:
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার)
০৩৫৯২ আসানসোল–বোকারো স্টিল সিটি মেমু, ৮ কোচ বিশিষ্ট রেক নিয়ে বিকাল ৫টায় আসানসোল থেকে ছেড়ে রাত ৯টায় বোকারো স্টিল সিটিতে পৌঁছাবে। ট্রেনটি বার্নপুর, দামোদর, মধুকুণ্ড, মুরাডিহ, রামকানালি, বেরো, জয়চণ্ডী পাহাড়, আনারা, পুরুলিয়া, গৌরীনাথধাম, পুন্ডগ ও রাধাগাঁও স্টেশনে থামবে।
নিয়মিত পরিষেবা (১০ ফেব্রুয়ারি থেকে):
৬৩৫৯২ আসানসোল–বোকারো স্টিল সিটি মেমু সকাল ৭:০০ টায় আসানসোল থেকে ছেড়ে ১১:১৫ টায় বোকারো স্টিল সিটিতে পৌঁছাবে।
৬৩৫৯১ বোকারো স্টিল সিটি–আসানসোল মেমু বিকেল ৩:৪০ টায় বোকারো স্টিল সিটি থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় আসানসোলে পৌঁছাবে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর