ভিডিও

৯ দিনের ধর্মঘট তুলে কাজে ফিরলেন আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা

চেয়ারম্যান–ডেপুটি মেয়রদের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান

শ্যাম দাস,নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ৭ ফেব্রুয়ারি:
আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও ডেপুটি মেয়র অভিজিৎ ঘটক এবং ওয়াসিমুল হকের সঙ্গে শনিবার দুপুরে হওয়া বৈঠকে অবশেষে সমাধান সূত্র মিলল। এর পরেই ৯ দিনের মাথায় ধর্মঘট তুলে নিয়ে কাজে ফিরলেন পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা।
জানা গেছে, শনিবার বিকেল থেকেই শহরের একাধিক এলাকায় আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন সাফাই কর্মীরা। রবিবার সকাল থেকে তাঁরা পুরো মাত্রায় কাজে নামবেন। বেতন বৃদ্ধি ছাড়া সাফাই কর্মীদের বাকি সব দাবি পুর কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার থেকে একাধিক দাবিতে আসানসোল পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা ধর্মঘটে নামেন। এর ফলে পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডে সাফাইয়ের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং শহরের বিভিন্ন রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমে ওঠে। এই সময় একাধিকবার সাফাই কর্মীরা পুরনিগমে এসে বিক্ষোভ দেখান।
সাফাই কর্মীদের দাবির সমর্থনে বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম—তিন বিরোধী দলই রাজ্যের শাসক দল ও আসানসোল পুরনিগমকে আক্রমণ করে। শনিবার সকালে বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব পুরনিগম কর্তৃপক্ষকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রানিগঞ্জের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজু সিং নিজে রাস্তায় নেমে সাফাইয়ের কাজে অংশ নেন। শুক্রবার কংগ্রেস নেতা-কর্মীরাও রাস্তায় নেমে পরিষ্কারের কাজ করেন। একই দিনে যুব কংগ্রেস পুরনিগমে বিক্ষোভ দেখিয়ে মেয়রের চেম্বারের দরজায় স্মারকলিপি সাঁটিয়ে দেয়।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে পুরনিগমের মেয়র বিধান উপাধ্যায় এক বৈঠকের পর স্পষ্ট জানান, এই মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তবে অন্যান্য দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাফাই কর্মীদের ধর্মঘট তুলে কাজে ফেরার আহ্বান জানান।
এরপর শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ সাফাই কর্মীরা চেয়ারম্যান ও দুই ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, দু’মাস পরে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইএসআই সংক্রান্ত সমস্যায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাফাই কর্মীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা থাকায় যাঁরা এখনও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি, তাঁদের দ্রুত তা জমা দিতে বলা হয়েছে। নথি জমা পড়লেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সাফাই কর্মীদের ক্যাজুয়াল করার দাবিটি প্রস্তাব আকারে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারই নেবে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর