ভিডিও

শিল্পনগরীর যানজটমুক্তির পথে বড় পদক্ষেপ, কুমারপুর আরওবি জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ

নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস | আসানসোল
আসানসোল, ৮ ফেব্রুয়ারি:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ‘স্টপ-এন্ড-গো’ সমস্যার রবিবার সরকারিভাবে অবসান ঘটল। কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আসানসোলের কুমারপুর রোড ওভারব্রিজটি (আরওবি) জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আসানসোলের কুমারপুরে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে রোড ওভারব্রিজের ফলক উন্মোচন করেন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুলটির বিধায়ক ডা. অজয় পোদ্দার, বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য এবং পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি দলের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ এবং বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কেও আক্রমণ করেন।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “রাজ্যের বর্তমান সরকারের মেয়াদ আর মাত্র দু’মাস। বাংলার মানুষ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অত্যাচার সহ্য করতে হবে না। নির্বাচনের পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হবে এবং উন্নয়নের জোয়ার আসবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার বাংলায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজে কেন্দ্র সরকারকে সহযোগিতা করে না, এমনকি জমিও দেওয়া হয় না। বাবুল সুপ্রিয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাঁর আমলেই এই আরওবি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। রেল ও সেল যৌথভাবে এই সেতুটি নির্মাণ করেছে। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন প্রথম একাদশে খেলার জন্য—কিন্তু খেলছেন কি না, তা সময়ই বলবে।”
এদিকে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, আসানসোলের কুমারপুরের এই রোড ওভারব্রিজ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক (জিটি) রোড সংলগ্ন শিল্প পরিবহণে নতুন গতি আনতে প্রস্তুত। শহরের অন্যতম প্রধান যানজটপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ সরিয়ে দেওয়ায় শিল্পের চাকা আর কখনও থামবে না বলেই আশা।
কয়লা ও ইস্পাতবাহী ভারী যানবাহনগুলি এখন যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্নে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবে। এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং হাজার হাজার নিত্যযাত্রী দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
এই সেতুটি একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং অপসারণ করায় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কার্যত নির্মূল হয়েছে। বরাচক-সহ পার্শ্ববর্তী শহরতলি অঞ্চলগুলি এখন আসানসোল শহরের মূল কেন্দ্রের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত হল। ফলে দিনমজুর, অফিসযাত্রী ও ছাত্রছাত্রীদের আর দেরিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকছে না।
রেল মন্ত্রকের দাবি, আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলে নির্মিত এই প্রকল্প পশ্চিম বর্ধমানের শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল—যেখানে আর কোনো উন্নয়ন ‘বন্ধ গেট’-এ আটকে থাকবে না।

TAGS

সম্পর্কিত খবর