নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস | আসানসোল
মঙ্গলবার সকাল হতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর একযোগে অভিযানে। দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর, জামুরিয়া ও বুদবুদ—জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সকাল ছটা থেকেই শুরু হয় টানা তল্লাশি অভিযান।
দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপ এলাকায় বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বাড়িতে সকাল থেকেই ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। একই সঙ্গে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার নবগ্রাম এলাকাতেও এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির অভিযান চলছে। সূত্রের খবর, সেখানে মোট আটটি গাড়িতে করে ইডির দল পৌঁছয়। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলিতে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির বাইরে মোতায়েন রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
অন্যদিকে, জামুরিয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলা এলাকায় সাবান ফ্যাক্টরি গলিতে অবস্থিত হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রাজেশ বানসালের বাড়িতেও বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ প্রায় ১৬ জনের একটি টিম তিনটি গাড়িতে করে, সিআইএসএফের কড়া নিরাপত্তা বলয়ে অভিযান শুরু করে। জানা গেছে, রাজেশ বানসালের জামুরিয়া ও রানীগঞ্জ এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসা রয়েছে। তাঁর নামে কোনও হিসাব বহির্ভূত আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং অতীতে খনি সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিষয়েই তদন্ত চলছে। বর্তমানে ইডির ১৩ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযানটি হয়েছে বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে টানা তল্লাশি চালাচ্ছে ইডির আধিকারিকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে থানার দায়িত্বভার গ্রহণই করেননি। এর আগেই এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে গোটা জেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, ইডির একটি দল তাঁর বাড়িতে ঢুকে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন। বাড়ির বাইরে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে তাঁকে আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। থানার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইডির এই অভিযানে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে।
জানা গেছে, শুধু এই নির্দিষ্ট কয়েকটি বাড়িতেই নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলার একাধিক এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই সমস্ত অভিযানের প্রকৃত কারণ এবং তদন্তের পরিধি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কয়লা ও বালি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।







