ভিডিও

পশ্চিম বর্ধমানে ইডির মেগা অভিযান: নবনিযুক্ত ওসির বাড়িতে হানা, জামুড়িয়ায় উদ্ধার নগদ ও নথি

১২ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি শেষে নবনিযুক্ত ওসির বাড়ি থেকে বেরোল ইডি, জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান

শ্যাম দাস | আসানসোল | দুর্গাপুর | জামুড়িয়া
প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে টানা ম্যারাথন তল্লাশির পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকরা। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির ভেতরে বিভিন্ন নথিপত্র ও সামগ্রী খতিয়ে দেখেন ইডি আধিকারিকরা।
তবে অভিযান শেষে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি, নগদ অর্থ বা অন্য কোনও সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, অবৈধ কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মনোরঞ্জন মণ্ডল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বুদবুদ থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর বাড়িতে ইডির এই হাই-ভোল্টেজ অভিযান ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযানের সময় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, কয়েক মাস আগে মনোরঞ্জন মণ্ডল সাময়িকভাবে সাসপেন্ড হয়েছিলেন। পরে তাঁকে আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই সম্প্রতি বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে তাঁর নিয়োগ হয়।
এদিন শুধু বুদবুদ নয়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক জায়গায় একযোগে ইডির অভিযান চলে।
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার নবগ্রাম এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সকাল ছটা থেকে ইডির রেট চলে, যেখানে মোট আটটি গাড়ি অভিযানে অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে নাটকীয় ছবি ধরা পড়ে জামুড়িয়ায় ব্যবসায়ী বানসাল পরিবারের বাড়ি ও গুদামে ইডি অভিযানে। অবৈধ কয়লা ও বালি পাচার মামলার তদন্তে ইডি আধিকারিকরা স্টেট ব্যাংকের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অমিত ও সুমিত বানসালের বাড়িতে তল্লাশি চালান। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের পর টাকা গোনার জন্য নোট গোনার মেশিন আনা হয়।
অভিযান শেষে ইডি আধিকারিকদের চালের তিনটি বড় বস্তা ভর্তি নথিপত্র ও নগদ অর্থ নিয়ে বেরোতে দেখা যায়। যদিও ওই বস্তাগুলিতে ঠিক কী পরিমাণ টাকা বা কী ধরনের নথি ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি।
ইডির প্রাথমিক অনুমান, অবৈধ কয়লা ও বালি পাচারের অর্থ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই অভিযানের জেরে গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি ও নথি পরীক্ষার কাজ চলে।
এই মুহূর্তে ইডির পক্ষ থেকে অভিযানের প্রকৃত কারণ ও তদন্তের পরিধি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

TAGS

সম্পর্কিত খবর