নির্ভীক বাংলা,আসানসোল, ১১ জুলাই:
রাহা লেনে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে তিন আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে শনিবার উচ্ছেদের প্রতিবাদে শতাধিক হকার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের আশ্বাস দেন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে রাস্তার ধারে অবৈধভাবে বসা দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হবে এবং দুর্গাপুজো ও ছটপুজো পর্যন্ত বাজারের ভিতরের পুরনো হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না। অভিযোগ, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই তিন আধিকারিকের উদ্যোগে কিছু দোকান ভেঙে ফেলা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ৯ জুলাই তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরেও ১০ জুলাই কীভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল, তার জবাব চেয়ে সংশ্লিষ্ট তিন আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে সাসপেনশন-সহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু আধিকারিক বা কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করে থাকতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পুরনো হকারদের তালিকা তৈরি করে নতুন বাজারে স্থান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের PM SVANidhi প্রকল্পের আওতায় স্বল্পসুদে ঋণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার পশ্চিম বর্ধমান হকার কমিটির ব্যানারে শতাধিক হকার রাহা লেনে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে আসানসোল সাউথ থানা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি। তিনি আন্দোলনরত হকারদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার আবেদন জানান এবং বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গাপুজো পর্যন্ত হকারদের বিরুদ্ধে আর কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। ভবিষ্যতের সমস্ত পদক্ষেপ সরকারি নির্দেশ মেনেই হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি বলেন, “সামান্য ‘মিস কমিউনিকেশন’-এর কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। সরকার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বাকি বিষয়গুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।”
বিধায়কের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনরত হকাররা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানান। তবে প্রশাসন ও হকার প্রতিনিধিদের মধ্যে শীঘ্রই আরও একটি বৈঠক হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।





