নির্ভীক বাংলা,কলকাতা, ২২ জুন: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেট ২০২৬-২৭-কে স্বাগত জানিয়ে শিল্প মহল জানিয়েছে, এই বাজেট রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে। সোমবার কলকাতায় কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্য বাজেট পর্যালোচনা অধিবেশনে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতারা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সিআইআই পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান তথা টেগা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রুপ সিইও মেহুল মোহঙ্কা বলেন, রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো-ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। দুর্গাপুর, আসানসোল ও শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মেট্রো রেল সমীক্ষা নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে কর্মীদের যাতায়াত সহজ করবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প পার্ক, লজিস্টিক হাব ও আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে মামলা-মুক্ত বৃহৎ জমির প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে নগর ভূমি নীতির পুনর্বিবেচনা এবং ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজেটে ঘোষিত কল্যাণীর নিকটবর্তী গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপত্রবরে গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকেও শিল্প মহল স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব প্রকল্প রাজ্যের লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
সিআইআই-এর প্রতিনিধিরা জানান, বাজেটে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে।
ওবিটি-র চেয়ারম্যান রুদ্র চ্যাটার্জী উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গে প্রস্তাবিত আইআইটি, আইআইএম, আইটি পার্ক, বিমানবন্দর ও সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। পাশাপাশি চা শিল্পে মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ ইমপ্যাক্ট এআই মিশন’, ডেটা সেন্টার উন্নয়ন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করার উদ্যোগকে শিল্পমহল ভবিষ্যতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রসঙ্গে সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক বরুয়া বলেন, আয়ুষ্মান ভারতের জন্য ৩,১০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বরাদ্দ এবং উত্তরবঙ্গে একটি এইমস ও বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা স্বাস্থ্য পরিষেবার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এছাড়াও ১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৬৫০টি নতুন এমবিবিএস আসন সংযোজনের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান।
শিল্প মহল আরও জানিয়েছে, শিলিগুড়িতে আইটি পার্ক, দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র, ৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ উন্নয়ন তহবিল এবং নতুন স্টার্টআপ নীতি রাজ্যে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।
সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিষদের সহ-সভাপতি পৃথিশ চৌধুরী বলেন, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা, শিল্প করিডোর, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা উৎপাদন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর মতে, বাজেটে ঘোষিত পরিকাঠামো ও শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
অধিবেশনে উপস্থিত শিল্প প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন যে, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেট ২০২৬-২৭ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেছে।
এই প্রতিবেদনটি সংবাদপত্র বা নিউজ পোর্টালের উপযোগী করে সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ ভাষায় প্রস্তুত করা হয়েছে।




