নির্ভীক বাংলা,জামুড়িয়া: ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার অন্তর্গত নিউ কেন্দা কোলিয়ারির নিউ কেন্দা ওসিপি (ওপেন কাস্ট প্রজেক্ট) কুঁয়ারি-২ এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির পর ব্যাপক পরিমাণে ধোঁয়া বের হতে শুরু করায় আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ওসিপি চত্বরের বিস্তীর্ণ অংশ, ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ওসিপির সংলগ্ন সালডাঙ্গা মণ্ডল পাড়া ও বাউরি পাড়ায় কয়েকশো মানুষের বসবাস। ধোঁয়া নির্গমনের ঘটনা সামনে আসতেই বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অমরজিৎ মণ্ডল জানান, প্রায় আট মাস আগেও একই ওসিপি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে আশপাশের মানুষদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই দাবির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ।
তাঁর দাবি, শনিবার ফের ধোঁয়া নির্গমনের ঘটনা প্রমাণ করছে যে পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “এত বড় বিপজ্জনক এলাকার চারপাশে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত ঘেরাবন্দির ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে মানুষ ও গবাদি পশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। প্রায়ই পশু ওসিপির মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি নিউ কেন্দা কোলিয়ারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক রাতেই ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, সেই আগুনের প্রভাব এখনও ভূগর্ভে বিদ্যমান রয়েছে। এর জেরেই মাঝেমধ্যে জমি ফেটে যাওয়া, আগুনের তাপ অনুভূত হওয়া এবং ধোঁয়া নির্গমনের মতো ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর অনেক সময় মাটির ফাটলগুলো খুলে যায়। এর ফলে ভূগর্ভস্থ আগুন অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধোঁয়া নির্গমন শুরু হয়।
ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনার পর ওসিপিতে কাজকর্ম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত ধোঁয়া নির্গমন অব্যাহত ছিল। তবে ঘটনাস্থলে ইসিএল কর্তৃপক্ষের কোনও আধিকারিক পৌঁছেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।





