ভিডিও

সরকারি নির্দেশ মেনে আসানসোলের স্কুলে বন্দে মাতরম’


নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস, আসানসোল
রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনে রবিবার সকালে আসানসোলের উমারানি গড়াই মহিলা কল্যাণ স্কুল-এ প্রার্থনা সভায় জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়।
স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ পাপিয়া ঘোষের নেতৃত্বে পড়ুয়াদের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষিকারাও এই গানে অংশ নেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক (ডিআই) দপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলিতে সরকারি নির্দেশ ও গানের পাঠ আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক রচনা করেন। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথমবার এই গানে সুরারোপ করে পরিবেশন করেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে গানটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে রয়েছে। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা প্রদান করে।
এছাড়াও, ১৯০৯ সালে শ্রীঅরবিন্দ গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়। বিভিন্ন সময়ে বহু শিল্পী ও সুরকার ‘বন্দে মাতরম’-এ সুরারোপ করেছেন। ২০০২ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরারোপিত ‘বন্দে মাতরম’ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গানের স্বীকৃতি লাভ করে।
নতুন শিক্ষাবর্ষে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়গুলিতে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় চেতনা আরও জোরদার হবে বলে শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর