ভিডিও

রানিগঞ্জের ঐতিহাসিক রাজবন্ধ পুকুরে প্রশাসনের কড়া নজর, অবৈধ দখলদারদের হুঁশিয়ারি বিধায়ক পার্থ ঘোষের


নির্ভীক বাংলা,শ্যাম দাস, আসানসোল:
রানিগঞ্জের ঐতিহাসিক ও অন্যতম পরিচিত জলাশয় ‘রাজবন্ধ পুকুর’-কে ঘিরে এবার কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার জেরে সংকটে পড়া এই পুকুরকে পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। সোমবার রানিগঞ্জের বিধায়ক Partha Ghosh প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আচমকাই পুকুর এলাকা পরিদর্শনে যান এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— পুকুরের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধভাবে দখল করে রাখা সহ্য করা হবে না।
এদিন বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রানিগঞ্জ বিএলআরও দপ্তরের আধিকারিক, রানিগঞ্জ থানার আইসি সহ প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বহু স্থানীয় বাসিন্দা। প্রায় ১২১ বিঘা বিস্তৃত এই বিশাল পুকুরের বর্তমান পরিস্থিতি ঘুরে দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়ক।
পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে Partha Ghosh বলেন, “রাজবন্ধ পুকুর রানিগঞ্জের ঐতিহ্যের অংশ। একসময় এখানে ধুমধাম করে ছটপুজো ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হতো। বহু মানুষ এই পুকুরের জল ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি, এখানে ব্যাপক মাছ চাষ হওয়ায় রানিগঞ্জ বাজারে মাছের দামও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। অথচ আজ সেই ঐতিহ্যবাহী পুকুর ধ্বংসের মুখে।”
তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ১২১ বিঘা জমির সরকারি পরিমাপ করা হবে। যাঁরা পুকুরের জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে বিধায়ক কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “যাঁরা জানেন তাঁদের নির্মাণ পুকুরের জমির উপর হয়েছে, তাঁরা নিজেরাই তা সরিয়ে ফেলুন। প্রশাসনিক পরিমাপে অবৈধ দখল ধরা পড়লে আইন মেনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিধায়কের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অবৈধ নির্মাণে যুক্তদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেই স্থানীয় সূত্রে খবর। অন্যদিকে, প্রশাসনের এই উদ্যোগে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে রাজবন্ধ পুকুর আবারও তার পুরনো ঐতিহ্য ও পরিবেশ ফিরে পেতে পারে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর