নিজস্ব সংবাদদাতা,নির্ভীক বাংলা,আসানসোল :
আসানসোলের কোর্ট মোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফ্ল্যাটের মালিক আগরওয়াল পরিবার অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁরা সঞ্জয় সরকার নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে তিনি কোনও ভাড়াই দেননি বলে অভিযোগ।
আগরওয়াল পরিবারের সদস্যদের দাবি, যদিও ভাড়ার চুক্তি সঞ্জয় সরকারের সঙ্গে হয়েছিল, তবে সেখানে ববিতা দাস-ও তাঁর সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের মহিলাদের অভিযোগ, সঞ্জয় সরকার ও ববিতা দাস লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন এবং ভাড়ার টাকা চাওয়া হলেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হত।
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁরা মনে করছেন, এবার হয়তো নিজেদের ফ্ল্যাট ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে। সেই কারণেই বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের ঝাঁঝরা এলাকা থেকে তাঁরা কোর্ট মোড়ের ফ্ল্যাট খালি করাতে আসেন।
অন্যদিকে, সঞ্জয় সরকার স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়া হয়নি। তবে ঠিক কত বছর ভাড়া বাকি রয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি ববিতা দাসের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ববিতা তাঁর বোন।
ববিতা দাসও একই দাবি করে বলেন, সঞ্জয় সরকার তাঁর ভাইয়ের মতো। তবে ১০ বছর ধরে ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি। তাঁর বক্তব্য, ফ্ল্যাটের চুক্তি যেহেতু তাঁর সঙ্গে নয়, সঞ্জয় সরকারের সঙ্গে হয়েছিল, তাই এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।
ঘটনার খবর পেয়ে অঙ্কুর রায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি-র অনুরোধে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
অঙ্কুর রায় বলেন, “এখানে এসে জানতে পারলাম ১০ বছর ধরে ভাড়া দেওয়া হয়নি। বাড়ির মালিক দ্রুত ফ্ল্যাট খালি চান। কিন্তু আইন মেনে নোটিশ ছাড়া কাউকে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ছাড়তে বলা যায় না।”
তিনি আরও জানান, ববিতা দাস বাড়ির মালিকের কাছে দু’দিন সময় চেয়েছেন, যাতে ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।





