ভিডিও

ঘন কুয়াশায় অদৃশ্য বসিরহাট, ১০ ফুট দূরেও অদৃশ্য পথ

নির্ভীক বাংলা:
রাজ্যজুড়ে বসন্তের আমেজ থাকলেও এদিন সকাল থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল বসিরহাট শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। সকাল হতেই চারপাশে নেমে আসে ধূসর আবরণ, কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে স্বাভাবিক দৃশ্যমানতা। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই তীব্র ছিল যে ১০ ফুট দূরের কোনও মানুষ বা যানবাহনও স্পষ্টভাবে দেখার উপায় ছিল না। রাস্তার মোড়, দোকানপাট, এমনকি বাড়ির সামনের অংশও ঝাপসা হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন গাড়ি চালকেরা। দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় হেডলাইট ও ফগ লাইট জ্বালিয়েও অত্যন্ত ধীরে গাড়ি চালাতে দেখা যায় তাঁদের। কোথাও কোথাও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে পরিস্থিতি বুঝে এগোতে হয়। North 24 Parganas জেলার বসিরহাট মহকুমার মিনাখা, হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, হাড়োয়া, সন্দেশখালি ও বাদুড়িয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় একই চিত্র ধরা পড়ে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাতেও কুয়াশার ঘনত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেকেই নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হননি। স্থানীয়দের মতে, এত ঘন কুয়াশা দীর্ঘদিন পর দেখা গেল। বাড়িঘর, গাছপালা, রাস্তার মোড়—সবই যেন অস্পষ্ট ছায়ামূর্তির মতো ভেসে ওঠে। সকালবেলায় ঘুম ভাঙতেই জানালার বাইরে ধূসর দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন অনেকেই। মাঠের ফসল, পুকুরের জলরাশি কিংবা খোলা প্রান্তর—সবই কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নীরব ও স্তব্ধ পরিবেশে প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপ ধরা দেয়।
হঠাৎ এই ঘন কুয়াশায় উদ্বেগে আম চাষিরাও। তাঁদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব পড়তে পারে আমের মুকুলে।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্ক রয়েছে Border Security Force। ঘন কুয়াশার সুযোগে যাতে কোনও অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ফুটতে শুরু করলে ধীরে ধীরে কুয়াশা কাটতে থাকে। তবে সকালজুড়ে ১০ ফুট দূরেও কিছু দেখা না যাওয়ার অভিজ্ঞতা এলাকাবাসীর কাছে বিরল ও স্মরণীয় হয়ে থাকল।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর