নির্ভীক বাংলা, মহেশ দে, আসানসোল:
ভ্যালেন্টাইনস উইকের শেষ এবং সবচেয়ে বিশেষ দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। সারা বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয় ভালোবাসার উৎসব হিসেবে। প্রেম, স্নেহ ও সম্পর্ককে প্রকাশ করার অনন্য উপলক্ষ হিসেবে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন ঠিক ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই পালিত হয় এই দিন?
ইতিহাস বলছে, এই দিনের নামকরণ হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মযাজক Saint Valentine-এর নাম অনুসারে। তৃতীয় শতকে রোমান সম্রাট Claudius II মনে করতেন, অবিবাহিত পুরুষরা যুদ্ধে বেশি দক্ষ হন। তাই তিনি তরুণদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন গোপনে প্রেমিক যুগলদের বিবাহ দিতেন। এই কারণে তাঁকে গ্রেফতার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারিই ছিল তাঁর মৃত্যুদিবস।
পরবর্তীকালে খ্রিস্টান ধর্মগুরু Pope Gelasius I ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে “সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে” হিসেবে ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে রোমান উৎসব লুপারকালিয়ার পরিবর্তে খ্রিস্টীয় ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
মধ্যযুগে ইউরোপে একটি বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাখিরা সঙ্গী নির্বাচন শুরু করে। এই ধারণাও দিনটিকে প্রেম ও রোমান্সের সঙ্গে যুক্ত করে। ধীরে ধীরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দিনটি ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ভ্যালেন্টাইনস ডে বিশ্বব্যাপী ভালোবাসা প্রকাশের দিন হিসেবে পালিত হয়। ফুল, উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড কিংবা বিশেষ মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি হয়ে উঠেছে সম্পর্ক উদযাপনের এক বিশেষ দিন। ঐতিহাসিক কাহিনি, ধর্মীয় সিদ্ধান্ত এবং লোকবিশ্বাসের মেলবন্ধনেই এই দিনটি আজ প্রেমের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।




