ভিডিও

সরস্বতী পুজো ও নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে তালাবন্দি সরকারি স্কুল

সরস্বতী পুজো ও নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে তালাবন্দি সরকারি স্কুল! বর্ধমান শহরে চরম লজ্জার ছবি—গেটের বাইরে এলাকাবাসী ও প্রাক্তনীরা পুজো,করলেন কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

নির্ভীক বাংলা:
পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর শহরে বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড় পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন চরম সমালোচনার কেন্দ্রে। সরস্বতী পুজো ও দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর মতো ঐতিহাসিক ও গৌরবময় দিনে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রইল সরকারি বিদ্যালয়ের গেট—ঝুলল তালা!
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি—একদিকে বিদ্যার দেবী বাগদেবীর আরাধনা, অন্যদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ নেতাজির জন্মদিন। অথচ এই মাহেন্দ্রক্ষণেই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত সমস্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। প্রশ্ন উঠছে— এটা কি গাফিলতি, না কি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা?
বিদ্যালয়ে কর্মরত চারজন শিক্ষক ও একজন অশিক্ষক কর্মী থাকা সত্ত্বেও, আজকের দিনে একজনেরও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ হলো না! বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও লজ্জাজনক বিষয়— যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কারাবন্দি অবস্থাতেও সরস্বতী পুজোর আরাধনা করেছিলেন, সেই মহান নেতার জন্মদিনেই একটি সরকারি বিদ্যালয় বাগদেবীর পূজা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখল!
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার মধ্যেও বিদ্যালয়ের গেটের সামনেই সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালন করেন প্রাক্তনী ছাত্র ছাত্রী ও এলাকাবাসীরা। বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢোকার অনুমতি না মিললেও, শিক্ষা ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নেন তাঁরা।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— সরকারি বিদ্যালয়ে যদি এই দিনেও তালা ঝোলে, তবে পড়ুয়াদের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে? এর দায় নেবে কে? শিক্ষা দপ্তর, না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
গুসকরা কলেজের অধ্যাপক তথা স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মিত্র জানিয়েছেন, আজকের দিনে পুজো হওয়াটা উচিত ছিল আগে পূজো হতো কিন্তু হঠাৎ পুজো বন্ধ এটা প্রথমবার দেখলাম। অনেক প্রাক্তনীরা আছে তাদের ভাবাবেগে আঘাত হলো বলা যায়। পুজোর মধ্য দিয়ে কালচার ধরে রাখার প্রচেষ্টা করি আমরা তাই সেই মর্মে পুজোটা হওয়া উচিত ছিল …

TAGS

সম্পর্কিত খবর