Nirbhik Bangla
खेल

প্রথমে ক্যানসারকে হারিয়েছিল, এবার টিক ফিভার ও লিভারের রোগে আক্রান্ত ৭ বছরের পথকুকুর ভোলা

নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
28 सितंबर 2026 को 05:18 pm बजे
WhatsApp
প্রথমে ক্যানসারকে হারিয়েছিল, এবার টিক ফিভার ও লিভারের রোগে আক্রান্ত ৭ বছরের পথকুকুর ভোলা





আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনের সকলের প্রিয় ভোলা। সাংবাদিক ও পশুপ্রেমীদের সহযোগিতায় একসময় হয়েছিল ক্যানসারের চিকিৎসা। এবার তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর দল নিরলসভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন।




আসানসোল: মানুষ ও অবলা প্রাণীর মধ্যে ভালোবাসা এবং আত্মিক টান কীভাবে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে থাকা সাত বছরের পথকুকুর ভোলা। একসময় ক্যানসারের মতো মারণরোগকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিল সে। কিন্তু এবার ফের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে ভোলা। বর্তমানে সে টিক ফিভার, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, লিভারের সমস্যা এবং রক্তাল্পতায় ভুগছে।

ভোলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীরা গত এক সপ্তাহ ধরে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভোলাকে সুস্থ করে তুলতে সাংবাদিক ও পশুপ্রেমীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।




২০২০ সালে রবীন্দ্র ভবনে এসেছিল ভোলা, নিজের ব্যবহারে জয় করেছিল সকলের মন




ভোলার গল্প শুরু হয় ২০২০ সালে। সেই সময় তার বয়স ছিল প্রায় এক বছর। আসানসোলের রবীন্দ্র ভবন চত্বরে এসে থাকতে শুরু করে সে। পথকুকুর হলেও ভোলার মিষ্টি স্বভাব, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা এতটাই মন জয় করে নিয়েছিল যে, রবীন্দ্র ভবনের কর্মীরা তাকে আর সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে পারেননি।

ধীরে ধীরে রবীন্দ্র ভবনই হয়ে ওঠে ভোলার ঘর। দিনরাত সেখানেই থাকতে শুরু করে সে। প্রথমদিকে রবীন্দ্র ভবনে আসা-যাওয়া করা মানুষদের দেখলে ভোলা ঘেউ ঘেউ করত। তবে কর্মীরা তাকে বারণ করলে সে চুপ করে যেত। তার এই আচরণই অল্প সময়ের মধ্যে সকলের মন জয় করে নেয়।

দেখতে দেখতে ভোলা শুধু রবীন্দ্র ভবনের কর্মীদেরই নয়, সেখানে আসা-যাওয়া করা সাধারণ মানুষেরও প্রিয় হয়ে ওঠে। পশ্চিম বর্ধমান প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গেও তার গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ভোলার প্রতি মানুষের ভালোবাসা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেকেই নিজেদের সঙ্গে তার জন্য বিস্কুট নিয়ে আসতেন।

রবীন্দ্র ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পর খাবার বেঁচে গেলে, সেই খাবার খেয়েই নিজের পেট ভরাত ভোলা। এভাবেই রবীন্দ্র ভবন চত্বরে থাকা মানুষদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছিল সে।




ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন




ভোলার জীবন বেশ ভালোই কাটছিল। কিন্তু রবীন্দ্র ভবনে আসার দুই থেকে তিন বছর পর ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয় সে। ভোলার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাকে ভালোবাসা মানুষজন।

সেই কঠিন সময়ে উদ্যোগ নেন সাংবাদিকরা। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় ভোলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং চিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করে সে। ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের সঙ্গে লড়াই করে ফের সুস্থ জীবনে ফিরে আসে ভোলা।

এরপরও একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। যখনই ভোলার অসুস্থতার খবর পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছেছে, তখনই তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে রবীন্দ্র ভবনে ছুটে গিয়েছেন। কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই তিনি ভোলার চিকিৎসা করেছেন এবং তার দেখভালে সহযোগিতা করেছেন।




ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর এবার চারটি গুরুতর শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত

ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার পর ভো




ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার পর ভোলার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু এবার ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে সে। বর্তমানে টিক ফিভার, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, লিভারের সমস্যা এবং রক্তাল্পতার মতো একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছে ভোলা।

ভোলার অসুস্থতার খবর পেয়ে ফের তার পাশে দাঁড়িয়েছেন পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে তার চিকিৎসা চলছে।

তবে ভোলার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম যথেষ্ট বেশি। ফলে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় পশুপ্রেমীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহ করে ভোলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। যাতে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।




মানবিকতার খাতিরেই ভোলার চিকিৎসা করছি’




পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মানবিকতার খাতিরেই তিনি ভোলার চিকিৎসা করছেন। এর জন্য পশুপ্রেমীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। কারণ, ভোলার অসুস্থতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম যথেষ্ট বেশি।

তিনি জানান, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভোলাকে সুস্থ করে তোলার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর উদ্দেশ্য শুধু ভোলার চিকিৎসা করাই নয়, সমাজের মধ্যে অবলা প্রাণীদের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তোলাও।

পার্থ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ভোলার মতো আরও অনেক অসুস্থ পথকুকুরের চিকিৎসা করেন তিনি। রাস্তায় থাকা অসুস্থ ও অসহায় প্রাণীরা যাতে সময়মতো চিকিৎসা পায়, সেই চেষ্টা সবসময়ই করেন তিনি।




অসুস্থ পথকুকুরদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আবেদন




ভোলার গল্প শুধুমাত্র একটি পথকুকুরের অসুস্থতা ও চিকিৎসার কাহিনি নয়। এটি সেই সমস্ত মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং মানবিক উদ্যোগের গল্প, যাঁরা একটি অবলা প্রাণীকে নিজেদের পরিবারের সদস্য করে নিয়েছেন।

রবীন্দ্র ভবনে আসা মানুষদের একসময় ঘেউ ঘেউ করে স্বাগত জানাত যে ভোলা, আজ সেই ভোলাই অন্যদের সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে। যে চত্বরে বছরের পর বছর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে সে, আজ সেখানেই তার জীবন বাঁচানোর জন্য চলছে আপ্রাণ চেষ্টা।

পশু চিকিৎসক পার্থ গঙ্গোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অসুস্থ পথকুকুরদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। তাঁর কথায়, অবলা প্রাণীদের শুধু খাবার দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অসুস্থতার সময় তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও যত্নেরও প্রয়োজন রয়েছে।

প্রত্যেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রাণীদের সাহায্য করতে পারেন। এমনকী, তাদের দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসতে পারেন।

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগকে হার মানানো ভোলা আজ আবারও জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে। রবীন্দ্র ভবনের কর্মী, সাংবাদিক, পশু চিকিৎসক এবং পশুপ্রেমীদের আশা, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোলা আবারও সুস্থ হয়ে নিজের পুরনো চঞ্চল মেজাজে ফিরে আসবে।
टैग:Nirbhikbangla
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক
নির্ভীক বাংলা নিউজ ডেস্ক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, নির্ভীক বাংলা।

WhatsApp
12 टिप्पणियां